রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামের বাদশা মিয়ার নিজের কোনো জমি নেই। তবু গত ২০ বছরে তিনি ৩০ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়েছেন: সরকারি সড়কের দুই পাশে, মসজিদ আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায়, আর পতিত জমিতে।
৬৫ বছর বয়সী বাদশা মিয়ার গাছ লাগানোর ঝোঁক কিশোর বয়স থেকে। জায়গাজমি না থাকায় যুবক বয়সেই সরকারি ও উন্মুক্ত জায়গায় গাছ লাগাতে শুরু করেন। বড়দরগাহ-মাদারগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের মেষ্টা গ্রামের আমতলা থেকে ভগবানপুর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে এখন সারি সারি ফলদ, বনজ আর ঔষধি গাছ, অনেক গাছে ফলও ঝুলছে।
গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না তিনি; নিজের টাকায় সার ও ওষুধ দিয়ে যত্ন নেন। বিয়ে বা আকিকার দাওয়াতেও উপহার হিসেবে গাছ নিয়ে যান। বাদশা মিয়া বলেন, 'ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেঁচে থাকা যায়, কিন্তু অক্সিজেন ছাড়া এক মুহূর্তও বাঁচা সম্ভব নয়। গাছ আমাদের প্রকৃত বন্ধু।' নিজের চাওয়া জানতে চাইলে বলেন, মানুষ যে বলে গাছগুলো বাদশা লাগিয়েছে, এটাই তাঁর বড় পাওয়া।
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম, ইমরান ও রতন জানান, গরমের দিনে এসব গাছের ছায়া পথচারীদের স্বস্তি দেয়, ফলদ গাছের ফলও অনেকে খান। শানেরহাট কেজে ইসলাম বালিকা স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার এখলাছুর রহমান তাঁকে প্রকৃত পরিবেশবন্ধু বলে উল্লেখ করে সরকারি উদ্যোগে পরিবেশ পদক দেওয়ার অনুরোধ জানান।
শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে ব্যক্তিগত চেষ্টায় সবুজায়নের এমন দৃষ্টান্ত সমাজের জন্য অনুকরণীয়। সদ্য যোগ দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহীল বাকিউল বারী জানান, বাদশা মিয়ার গাছ লাগানোর উদ্যোগ চালিয়ে যেতে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বাদশা মিয়ার স্বপ্ন, একদিন পুরো এলাকা সবুজে ঘেরা হবে। সড়কের ধারে ফলদ গাছ লাগানোর তাঁর এই ধরন দেখায়, জমি না থাকলেও গ্রামের সরকারি জায়গা ছায়া আর ফলের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনটি সমকালের পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধির।
ছবি: পীরগঞ্জের সবুজ প্রকৃতি, Ashef Emran / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)