যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ডেটা সেন্টার নির্মাণে সাময়িক বিরতি চেয়েছে কৃষকদের সংগঠন পেনসিলভানিয়া ফার্ম ব্যুরো, জানিয়েছে ফার্ম অ্যান্ড ডেইরি। এই মাসে প্রকাশিত ২৩ পৃষ্ঠার এক নীতিপত্রে সংগঠনটি বলেছে, বিরতির সময়ে আইনপ্রণেতারা স্থানীয় জনপদে এসব স্থাপনার প্রভাব যাচাই করবেন, ছোট পৌর এলাকার জন্য সহায়তা তৈরি করবেন এবং কৃষিজমি আরও ভালোভাবে রক্ষা করবেন।
রাজ্যের পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের তালিকায় অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে ২৫টি নিশ্চিত ডেটা সেন্টার প্রকল্প, আর প্রস্তাবিত প্রকল্প ৪০টির বেশি। নীতিপত্রের লেখক অ্যান্ডি বেটার (Andy Bater) ফার্ম ব্যুরোর রাজ্য বোর্ডের পরিচালক এবং সেন্টার কাউন্টির সুইচগ্রাস চাষি। তিনি লুজার্ন, ফায়েট ও ইউনিয়ন কাউন্টিতে ডেটা সেন্টারের অবকাঠামোয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।
বেটারের মতে, একটি ডেটা সেন্টার কতটুকু জমিতে বসল, শুধু তা দিয়ে কৃষিতে তার প্রভাব মাপা যায় না। ডেটা সেন্টারের সঙ্গে আসে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, বিদ্যুৎকেন্দ্র আর শীতলীকরণ ব্যবস্থা, আর গত এক বছরে পেনসিলভানিয়া ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় এগুলোকে বিদ্যুৎ দিতে সঞ্চালন লাইনের প্রস্তাব বেড়েছে। নির্মাণকাজে উর্বর মাটি শক্ত হয়ে যায়, পানিনিষ্কাশন বদলে যায়, মাটি সংরক্ষণের কাজ নষ্ট হয়। টাওয়ার, সংযোগ সড়ক আর লাইনের পথ কনট্যুর চাষ, ফালি চাষ ও ঘাসে ঢাকা নালার ওপর দিয়ে চলে যায়, মাথার ওপরের তার আকাশপথে বালাইনাশক ছিটানো আটকায়, টাওয়ার খামারের যন্ত্রের পথে বাধা হয়।
বেটার বলছেন, কৃষির ওপর প্রভাব খামার ধরে ধরে যাচাই করা উচিত, আর এসব প্রকল্পে সরকারি অধিগ্রহণের নিয়মও হালনাগাদ দরকার। তিনি সিনেটর ক্রিস ডাশের আনা সিনেট বিল ২২৫-এর কথা বলেন, যাতে উন্নয়নের জন্য জমি নেওয়ায় মূল্য হারানো ব্যবসা ও খামারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব আছে। নীতিপত্রে পানি ও শব্দের কথাও এসেছে: শব্দে গরু এড়িয়ে চলার আচরণ, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ও চাপের অন্যান্য লক্ষণ দেখাতে পারে।
নীতিপত্র বলছে, সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় ছোট গ্রামীণ পৌর এলাকা। সেখানে কর্মী কম, আইন পরামর্শক খণ্ডকালীন, অনেক কাজ চলে স্বেচ্ছাসেবকে, আর পরিষদের সদস্যরাই প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, ফলে ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে। বেটারের ভাষায়, এতে একটি ছোট পৌরসভা ঠিক সেই সময়ে তার সবচেয়ে অভিজ্ঞ কৃষি কণ্ঠগুলো হারাতে পারে, যখন সেই জ্ঞান সবচেয়ে বেশি দরকার।
বেটার অবশ্য মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দেশের ডেটা সেন্টার দরকার। গভর্নর জশ শাপিরোর গ্রিড মানদণ্ড ও রাজ্যের পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের বড় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের শুল্কহারের মতো পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর যুক্তি, বিরতি পেলে উন্নয়ন ও অবকাঠামোর গতিপথ বদলানো কঠিন হয়ে ওঠার আগেই রাজ্য একটি সুসংহত কাঠামো তৈরির সময় পাবে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিজ পার্টশ।
সূত্র: Farm and Dairy

মন্তব্য
(০)