আয়ারল্যান্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত এক নতুন গবেষণা বলছে, ভেজা বা পুনরায় পানিতে ভেজানো পিটভূমিতে চাষ—যাকে পালুডিকালচার (paludiculture) বলা হয়—মাটির কার্বন রক্ষা এবং কৃষকের আয়, দুই-ই দিতে পারে। ছোট পাইলট থেকে একে মূলধারায় নিতে কী লাগবে, তারও একটি রূপরেখা দিয়েছে গবেষণাটি।
‘ট্রানজিশনিং ফ্রম ডিগ্রেডেড পিট টু পালুডিকালচার’ শিরোনামের প্রবন্ধটি এ মাসে ‘ল্যান্ড’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। নেতৃত্বে আছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের লিসা জেসেন ও ড. ফ্লোরেন্স রেনু-উইলসন; সহলেখক লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটি, ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, ল্যাঙ্কাশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট, ইউনিভার্সিটি অব গলওয়ে ও ইউনিভার্সিটি অব আমস্টারডামের গবেষকেরা।
গবেষণাটি এসেছে ইউনিভার্সিটি অব গলওয়ের নেতৃত্বাধীন ১ কোটি ইউরোর হরাইজন ইউরোপ প্রকল্প প্যালাস ডেমোস (Palus Demos) থেকে। ২৬টি অংশীদার নিয়ে প্রকল্পটির বড় পরীক্ষাক্ষেত্র আছে আয়ারল্যান্ডের অফালি, ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ও নেদারল্যান্ডসে; লক্ষ্য পানিতে ভেজানো জলাভূমিকে লাভজনক খামারে রূপ দেওয়া এবং জলাভূমির ফসলের বাজার তৈরি।
লেখকদের মতে, পালুডিকালচার জমির উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে কার্বন, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনা দেখিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ প্রমাণ এসেছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের স্বল্পমেয়াদি ছোট পরীক্ষাক্ষেত্র থেকে, তাই অন্য অঞ্চলে তা প্রয়োগ কঠিন।
তাঁদের রূপরেখায় রোপণ থেকে কয়েক দফা ফসল তোলা পর্যন্ত অনুসরণ করা দীর্ঘমেয়াদি প্রদর্শনী, নরম পিট মাটির উপযোগী কম চাপের যন্ত্রে বিনিয়োগ এবং বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সমন্বিত উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। দলটি নাতিশীতোষ্ণ পিটভূমিতে পালুডিকালচার বিষয়ক তথ্যসূত্রের একটি ডেটাবেসও প্রকাশ করেছে।
প্রকল্প সমন্বয়ক ইউনিভার্সিটি অব গলওয়ের নিয়াল ও ব্রোলখাইন বলেন, ইউরোপজুড়ে মাটি ও জলবায়ু বিজ্ঞানী, কৃষি অনুশীলনকারী ও সংরক্ষণ সংস্থার কাজ এতে যুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ক্যাথলিন ও'সালিভান (Kathleen O'Sullivan)।
ছবি: Hannes Grobe / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)