এ বছরের গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপপ্রবাহ ও দাবানলের সময় ইউরোপের অর্ধেক মানুষ খারাপ, খুব খারাপ বা চরম খারাপ মাত্রার ভূপৃষ্ঠের ওজোনের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের কোপারনিকাস অ্যাটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের (ক্যামস) এই তথ্য জানিয়েছে ইউরোনিউজ। সূর্যের আলো ও উচ্চ তাপমাত্রায় রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মাটির কাছাকাছি ওজোন তৈরি হয়, তাই জুন থেকে আগস্টের প্রচণ্ড গরমে এর মাত্রা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক পর্যায়ে ওঠে।
ওপরের বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে, কিন্তু ভূপৃষ্ঠের ওজোন এক বায়ুদূষক, যা শ্বাসতন্ত্রের গভীরে ঢুকে রক্তপ্রবাহে পৌঁছাতে পারে; হাঁপানির রোগীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে। এটি গ্রিনহাউস গ্যাসও: যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা ক্লিন এয়ার ফান্ড একে সুপার দূষক বলে এবং বর্তমান উষ্ণায়নের প্রায় ০.২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য একে দায়ী করে। ক্যামসের পরিচালক লরেন্স রুইল (Laurence Rouil) বলেন, ওজোন দূষণ মনে করিয়ে দেয় বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু, স্বাস্থ্য আর জীবিকা কতটা জড়িয়ে আছে; এটি বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য, এমনকি খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতাও নির্ধারণ করে।
তথ্যগুলো এসেছে ক্যামসের বায়ুমান বিষয়ক নতুন প্রতিবেদন অ্যাটমোস্ফিয়ার ওয়াচের প্রথম সংস্করণ থেকে। প্রতিবেদন বলছে, ওজোন তৈরির পেছনের নাইট্রোজেন অক্সাইড মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো থেকে আসে: শিল্প, দ্রাবক আর সড়ক পরিবহন থেকে; আর উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ায় দাবানল বাড়ায় জৈববস্তু পোড়ানো এতে যোগ হয়। মহাদেশের দক্ষিণে, যেখানে গরম সবচেয়ে তীব্র ও দীর্ঘ ছিল, সেখানে ঝুঁকি বেশি ছিল। ধোঁয়া দূষণকে উৎস থেকে বহু দূরে বয়ে নেয়: আগস্টে বেলজিয়ামের শত বছরের সবচেয়ে বড় দাবানলের ধোঁয়া জার্মানি পেরিয়ে পোল্যান্ডে পৌঁছায়।
অন্য দূষক কমাতে ইউরোপ সফল হয়েছে। কোপারনিকাসের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত এক দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের নিঃসরণ বছরে প্রায় ৩ থেকে ৫ শতাংশ হারে কমেছে; ২০১৫ সাল থেকে শিল্পের নাইট্রোজেন অক্সাইড কমেছে ৩৯ শতাংশ, সড়ক পরিবহনের ৪০ শতাংশ। কিন্তু অ্যাটমোস্ফিয়ার ওয়াচ বলছে, ওজোনে কমার কোনো স্পষ্ট প্রবণতা নেই। ইইউর নির্দেশনায় আট ঘণ্টার দৈনিক সর্বোচ্চ গড় প্রতি ঘনমিটারে ১২০ মাইক্রোগ্রাম, বছরে ১৮ দিনের বেশি এটি ছাড়ানো যাবে না; দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে ১০০।
বিশ্বজুড়ে ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ, এশিয়ার ৬০ শতাংশ, অত্যন্ত উচ্চমাত্রার ওজোনের মুখে পড়েছে, আর ভালো মাত্রায় ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির শহরগুলোর মধ্যে আছে ইতালির মিলান, রিও ডি জেনেইরো, মেক্সিকো সিটি, দিল্লি ও কায়রো। ইইউতে শুধু ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স ও স্পেনের ওজোনকেন্দ্রিক বায়ুমান পরিকল্পনা আছে। ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থা বলছে, যারা ভালো করছে তারা ওজোনের পূর্বাভাস ও এর উৎস বোঝায় জোর দিচ্ছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন রুথ রাইট।
ছবি: European Space Agency / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ



মন্তব্য
(০)