জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২১ সেপ্টেম্বর রোমের সদর দপ্তরে 'কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ বাস্তবায়নে বৈশ্বিক সম্মেলন' শুরু করেছে। উদ্বোধনী বক্তব্যে মহাপরিচালক QU Dongyu (কু দংইয়ু) বলেন, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য কৃষি থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। তাঁর কথায়, "ওয়ান হেলথ কৃষকের এজেন্ডা, বিজ্ঞানীর এজেন্ডা এবং মন্ত্রীরও এজেন্ডা।"
কু বিষয়টি কৃষির ভাষায় বুঝিয়ে বলেন—ক্ষয়প্রাপ্ত মাটি ফসল ও পশুখাদ্য দুর্বল করে, দূষিত পানি প্রাণী থেকে মানুষে রোগজীবাণু ছড়ায়, আর পোকামাকড় ও রোগে প্রতিবছর বিশ্বের আনুমানিক ২০ থেকে ৪০ শতাংশ ফসল উৎপাদন নষ্ট হয়। এসব ঝুঁকি একাধিক মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে পড়ে বলে সরকার, বিজ্ঞানী, কৃষক, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, তরুণ ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্মেলনের লক্ষ্য আলোচনা থেকে বাস্তব পদক্ষেপ, অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও বিনিয়োগের দিকে দেশগুলোকে এগিয়ে নেওয়া।
উদ্বোধনী অধিবেশনে তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী Mwigulu Lameck Nchemba (মুইগুলু লামেক এনচেম্বা) উপস্থিত ছিলেন; সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী Djuro Macut (জুরো মাচুত) ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট Guy Parmelin (গি পারমেলাঁ) ভিডিও বার্তা দেন। মন্ত্রী পর্যায়ে অংশ নেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী Annie Genevard (আনি জেনেভার); আয়ারল্যান্ডের কৃষি, খাদ্য ও সামুদ্রিক বিষয়ক মন্ত্রী Martin Heydon (মার্টিন হেইডন); দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তামন্ত্রী Yu-Kyoung Oh (ইউ-কিয়ং ও), ভিডিও বার্তায়; এবং তিউনিসিয়ার জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী Mustapha Ferjani (মুস্তাফা ফেরজানি)। চীনের জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের উপমহাপরিচালক XIA Gang (শিয়া গাং)-ও ছিলেন।
তথ্যের ঘাটতি মেটাতে এফএও এদিন 'সাসটেইনেবল লাইভস্টক ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ওয়ান হেলথ ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড নলেজ হাব' চালু করেছে—একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রাণিসম্পদের উপাত্ত, বিশ্লেষণী সরঞ্জাম ও এফএওর প্রাণিসম্পদ কার্যক্রমের তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে। বিষয় ও অঞ্চলভিত্তিক ড্যাশবোর্ডে থাকছে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন, প্রাণিস্বাস্থ্য ঝুঁকি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, জলবায়ু ও পরিবেশের সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক-সামাজিক বিষয়; একটি 'লাইভস্টক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট' ব্যবহারকারীকে পথ দেখাবে। এফএওর ভাষ্য, এই হাব আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদার করবে এবং নীতি, বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার জন্য প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি দেবে।
একই দিনে এফএও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH) এবং পরিযায়ী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কনভেনশন (CMS) যৌথভাবে 'বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বৈশ্বিক কাঠামো' উপস্থাপন করে। এতে প্রাণী ও জনস্বাস্থ্য এবং বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় চার সংস্থার যৌথ লক্ষ্য ও সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্মেলন চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এটি এফএওর 'ওয়ান হেলথ ইন অ্যাগ্রিফুড সিস্টেমস ফ্রেমওয়ার্ক' তৈরির কাজের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা ২০২৪ সালে সংস্থার কৃষি কমিটির অনুরোধে শুরু হয় এবং দেশগুলোকে নীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসূচিতে ওয়ান হেলথ যুক্ত করার বাস্তব দিকনির্দেশনা দেবে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পোলট্রি ও গবাদিপশু খামারিদের জন্য, যেখানে বার্ড ফ্লু ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বারবার ফিরে আসা উদ্বেগ, নতুন তথ্যকেন্দ্র ও চার সংস্থার এই কাঠামোই সম্মেলনের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাস্তব ফল।
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)