ভারতের ওড়িশা রাজ্য স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর চালের বাজার গড়ে তুলছে। ৩ অক্টোবর ভুবনেশ্বরে অনুষ্ঠিত ওড়িশা হেলদিয়ার রাইস বিজনেস সামিট ২০২৬-এ একসঙ্গে বসেছিলেন কৃষক, কৃষক উৎপাদক সংগঠন (এফপিও), নারী নেতৃত্বাধীন উৎপাদক দল, ক্রেতা, প্রক্রিয়াজাতকারী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও রাজ্য সরকার।
স্বাস্থ্যকর চালের তালিকায় আছে কম ও অতি-কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের (জিআই) চাল, বেশি প্রোটিনের চাল, অণুপুষ্টিসমৃদ্ধ চাল, ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি জাত এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ রঙিন চাল। এখন প্রায় ১,২০০ হেক্টরে এর চাষ হচ্ছে; আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে তা ১০,০০০ হেক্টরে নেওয়ার পরিকল্পনা।
সম্মেলনে ঘোষিত ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি প্রায় ১,০০০ টনের, আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি রুপি; এতে আছে পাঁচ ক্রেতা ও পাঁচটি এফপিও। ক্রেতারা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং ও বিতরণ নিয়ে সরাসরি কৃষক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন।
এই সম্প্রসারণে সহায়তার জন্য ওড়িশা আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) কারিগরি সহায়তায় বিশেষ চাল ও মিলেটের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন ও বাজার উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করবে। ইরি এবং ওড়িশা কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ওইউএটি) একসঙ্গে জাত উন্নয়ন, মাঠ যাচাই, সম্প্রসারণ ও তথ্যপ্রমাণ তৈরিতে কাজ করছে, আর বাজারের চাহিদার সঙ্গে জাত, উৎপাদন-পদ্ধতি, মান নিয়ন্ত্রণ ও উৎস-শনাক্তকরণ মেলাচ্ছে।
ওড়িশার উপমুখ্যমন্ত্রী এবং কৃষি ও কৃষক ক্ষমতায়নমন্ত্রী কনক বর্ধন সিং দেও বলেন, "কৃষক ও এফপিওকে গবেষণা, শিল্প ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে আমরা স্বাস্থ্যকর চালের প্রসার এবং কৃষকের আয় বাড়াতে পারি। ওড়িশার স্বাস্থ্যকর চাল দেশের ও বিশ্বের বাজারে নিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতিসহায়তা দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।"
সম্মেলনটি হয়েছে রাইস ভ্যালু অ্যাডিশনের মাধ্যমে স্বনির্ভর দল নেতৃত্বাধীন উদ্যোক্তা উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায়; এটি রাজ্যের কৃষি ও কৃষক ক্ষমতায়ন বিভাগ, মিশন শক্তি বিভাগ এবং ওড়িশা রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং সোসাইটির (ওআরএমএএস) যৌথ উদ্যোগ, বাস্তবায়নে ইরি। সম্মেলনের মূল বার্তা ছিল, "ওড়িশা স্বাস্থ্যকর চালকে গবেষণার প্লট থেকে বাজারে নিয়ে যাচ্ছে, আর প্রথম সুবিধাভোগী কৃষক।"
ছবি: Trócaire / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: IRRI





মন্তব্য
(০)