শখ করে ঘর সাজাতে মাত্র ১০টি রঙিন মাছ কিনেছিলেন নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ বাজার এলাকার আবু রায়হান। সেই মাছের পোনা থেকেই শুরু চাষের আগ্রহ, আর চার বছরে তিনি এখন বাণিজ্যিক রঙিন মাছচাষি, কৃষি সময়ের নীলফামারী প্রতিনিধি জানিয়েছেন।
২০২০ সালে ৫০০ টাকায় ১০টি মাছ কিনেছিলেন তিনি। এখন বাড়ির উঠানে ৩৬টি পাকা চৌবাচ্চায় ৩০ প্রজাতির রঙিন মাছ চাষ করছেন; খামারে আছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ। গাপ্পির নানা জাত, প্লাটিনাম ডাম্বু, অ্যালবিনো কই, ব্লু হেড সামুরাই, রেড মস্কো, বেলুন মলি, জেব্রা, গ্লো টেট্রা, কই কার্প, কমেট ও মিকি মাউস প্লাটিসহ নানা প্রজাতি রয়েছে তাঁর খামারে।
বিক্রির জন্য ‘রঙিন মাছের খামার নীলফামারী’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালান রায়হান; সেখান থেকে সারা দেশের ক্রেতারা যোগাযোগ করেন, আর সৈয়দপুরের পাইকাররা পাইকারি দামে মাছ কিনে নেন। প্রজাতি ও আকারভেদে প্রতিটি মাছ ১০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়, অক্সিজেনভরা ব্যাগে পাঠানো হয় বিভিন্ন জেলায়। এতে মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
রায়হান বলেন, তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যাতে আয়ের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও মেলে, রঙিন মাছে দুটোই পাচ্ছেন। শুরুতে মাছগুলো নিয়মিত বাচ্চা দিতে থাকলে আগ্রহ বাড়ে, পরে পরিবারের সহায়তায় খামার বড় করেন।
নীলফামারী সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এই খাতে রায়হানের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা দেশের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করছেন। বিদেশেও রঙিন মাছের চাহিদা আছে, আর উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়াতে মৎস্য বিভাগ নানাভাবে সহায়তা করছে।
ছবি: Monika Korzeniec / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)