১৯০৯ সালে মাপা শুরুর পর থেকে নিউজিল্যান্ডের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ১.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, আর রেকর্ডের ১০টি উষ্ণতম বছরের ৭টিই গত দশকে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত দেশটির সরকারি প্রতিবেদন আওয়ার অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ক্লাইমেট ২০২৬-এ এ তথ্য উঠে এসেছে, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। দেশটির নগর, পরিবেশ, অঞ্চল ও পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিবেদনটি জলবায়ু কীভাবে বদলাচ্ছে এবং মানুষ, স্থান ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য এর অর্থ কী, তার একটি স্বাধীন চিত্র দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের নিঃসরণ ও ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বাড়িয়েই চলেছে। ১৯৭২ থেকে ২০২৫ সালে মাপা ৩০টি স্থানের সবগুলোতেই শীতের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে। শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ ১৯৯৫-২০১৪ সালের গড়ের চেয়ে তাপমাত্রা ০.৭৫ থেকে ১.২ ডিগ্রি এবং ২১০০ সাল নাগাদ ০.৮ থেকে ৩.২ ডিগ্রি বাড়তে পারে, সবচেয়ে বেশি গ্রীষ্মে ও উঁচু এলাকায়। তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, দীর্ঘ ও তীব্র হবে, বিশেষ করে নর্থ আইল্যান্ডের উত্তরাংশে।
বরফ দ্রুত গলছে। ১৯৯৭ সালে হিমবাহের বরফ ছিল সর্বোচ্চ ৫৬ ঘন কিলোমিটার, ২০২৩ সালে নেমেছে ৩০-এ। মডেলের হিসাবে ২১০০ সাল নাগাদ নিম্ন নিঃসরণ পরিস্থিতিতে হিমবাহগুলো ২০১৫ সালের আয়তনের ১৪ থেকে ৮৬ শতাংশ, আর উচ্চ পরিস্থিতিতে ৬৯ থেকে ১০০ শতাংশ হারাতে পারে। ২০৪৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ ১৯৯৫-২০১৪ সালের গড়ের চেয়ে ২০ সেন্টিমিটারের বেশি উঠতে পারে; আশপাশের সমুদ্রের উপরিভাগ মাঝ শতাব্দী নাগাদ ১ থেকে ১.৫ ডিগ্রি উষ্ণ হতে পারে।
বৃষ্টি কম দিনে হলেও হবে ভারী। ২০৯০ সাল নাগাদ নর্থ আইল্যান্ডের বড় অংশে এবং সাউথ আইল্যান্ডের উত্তর ও পূর্বে বার্ষিক বৃষ্টি কমতে পারে, বাড়তে পারে সাউথ আইল্যান্ডের পশ্চিম ও দক্ষিণে। উচ্চ পরিস্থিতিতে শতাব্দীর শেষে একদিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টি ৮ থেকে ২৮ শতাংশ বাড়তে পারে, আর ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানে দশ বছরে একবারের ভারী বৃষ্টি হতে পারে দ্বিগুণ ঘন ঘন। ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় থেকে আসা ঝড়ের বৃষ্টি ১৫ থেকে ৫৫ শতাংশ বেশি হতে পারে।
কৃষিজমিও ঝুঁকিতে। ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ৩৮ হাজার থেকে ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার উৎপাদনশীল জমিতে বাষ্পীভবনজনিত পানির ঘাটতি অন্তত ৫০ মিলিমিটার বাড়তে পারে; ২০৯০ সাল নাগাদ উচ্চ পরিস্থিতিতে তা প্রায় ৯৫ হাজার, নিম্ন পরিস্থিতিতে প্রায় ৩১ হাজার বর্গকিলোমিটার। দেশের অনেক এলাকায় দাবানলের উপযোগী আবহাওয়া আরও তীব্র হবে, দাবানলের মৌসুম হবে দীর্ঘ।
ছবি: Michal Klajban / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)