ভবিষ্যতের তীব্র খরা, বন্যা আর সমুদ্রপৃষ্ঠ বাড়ায় লবণাক্ততার ঝুঁকি সামলাতে ক্যাননসভিল জলাধার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার রিভার বেসিন কমিশন। ক্যাননসভিল নিউইয়র্ক শহরের পানির তৃতীয় বৃহত্তম উৎস।
চার রাজ্যজুড়ে ১৩ হাজার ৫৩৯ বর্গমাইলের অববাহিকা দেখাশোনা করে কমিশনটি, যেখান থেকে লাখো মানুষ পানি পান। ক্যাননসভিল, পেপ্যাকটন ও নেভারসিঙ্ক জলাধারের মালিক নিউইয়র্ক শহর, আর শহরের পানীয় জলের প্রায় অর্ধেক আসে এই অববাহিকা থেকে; নিউইয়র্ক রাজ্য, ডেলাওয়্যার, পেনসিলভানিয়া ও নিউ জার্সির চাহিদাও মেটায় এটি। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস্টেন বাউম্যান কাভানাগ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে অববাহিকায় কী বদল আসছে তা বোঝা আর খরায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।
২০২৪ সালে নিউইয়র্ক শহর ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম খরা সতর্কতা জারি করে। পানির স্তর এত নেমেছিল যে ডেলাওয়্যার অ্যাকুইডাক্টের দুই বিলিয়ন ডলারের মেরামত পিছিয়ে দিতে হয়; পৌর জলাধারগুলোর সামগ্রিক স্তর নেমে আসে ৬০ শতাংশে, যা সাধারণত ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ থাকে। তারও দুই দশক আগে খরায় ক্যাননসভিলের ধারণক্ষমতা রেকর্ড ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছিল।
কমিশন বলছে, নতুন জলাধার রাতারাতি হয় না; প্রকৌশল জটিলতা, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব, নিরাপত্তা আর বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েক দশক লাগতে পারে। ২০২০ সাল থেকে মিঠা পানির সরবরাহে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে কাজ করে তারা পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর আড়াই হাজারের বেশি বিকল্প প্রস্তাব যাচাই করেছে, যার মধ্যে বিদ্যমান জলাধার বাড়ানো আর নতুন জলাধার তৈরি দুটিই আছে।
এখন চলছে ১৮ মাসের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা: সম্ভাব্য ধারণক্ষমতা, আনুমানিক ব্যয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি আর অঞ্চলের হাইড্রোলজি ও ভূতত্ত্ব খতিয়ে দেখা হচ্ছে; চূড়ান্ত ফল আসার কথা ২০২৮ সালের মাঝামাঝি। নিউইয়র্ক শহর কর্তৃপক্ষ আর কমিশন যৌথভাবে এই মিঠা পানি সঞ্চয় প্রকল্পে কাজ করছে। প্রতিবেদনটি দিনাজপুর টিভির।
ছবি: Russ Nelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি


মন্তব্য
(০)