টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ চুরি এখন নিয়মিত ঘটনা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ দখল, যত্রতত্র পাহাড় কাটা, বনের ভেতরেই দুই শতাধিক করাতকল, ইটভাটার কালো ধোঁয়া এবং পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য। সব মিলিয়ে বিশাল এই বনভূমি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় বন বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে ঘাটাইল উপজেলায় বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার ৭১১ একর। এই বনের মূল পরিচয় শাল ও গজারি গাছ।
অভিযোগ উঠেছে, শাল ও গজারিসহ নানা দেশি গাছ কেটে বনে লাগানো হচ্ছে বিদেশি জাতের গাছ। দেশি শালবনের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলো গাছের গোড়া থেকেই নতুন চারা গজায়, কিন্তু চোরচক্র গাছের গোড়া পর্যন্ত উপড়ে নিয়ে যাওয়ায় সেই বংশবৃদ্ধিও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে সন্ধানপুর ইউনিয়নের গৌরিশ্বর মৌজার ২০১৬ দাগের বনের প্লটের কথা বলা হয়েছে, যেখান থেকে একটি চক্র ১৬টি আকাশমণি গাছ কেটে নিয়ে গেছে।
বনের ভেতরে ও গা ঘেঁষে চলা করাতকলগুলো চোরাই কাঠের সহজ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। পাশে ইটভাটার ধোঁয়া আর পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য মাটি ও পানির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
বন উজাড়ের এই ধারা শুধু গাছের হিসাব নয়। শালবন কমে গেলে এলাকার মাটির আর্দ্রতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এবং আশপাশের ফসলের জমির পরিবেশও চাপে পড়ে, যার ভোগান্তি শেষ পর্যন্ত বন ঘেঁষে বাস করা কৃষি পরিবারগুলোর।
প্রতিবেদন: টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়


মন্তব্য
(০)