আধুনিক প্রযুক্তিতে ময়লা শোধন করে জৈব সার তৈরি হবে, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য থেকে আয় হবে, কমবে দুর্গন্ধ ও দূষণ: এমন প্রত্যাশা নিয়ে নেত্রকোনায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল বর্জ্য শোধনাগার। কিন্তু উদ্বোধনের পরদিনই এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, আর দীর্ঘদিন অচল স্থাপনাটি এখন নিজেই ময়লার ভাগাড়।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২০ সালে প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০২৪ সালে নির্মাণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাহিরচাপড়া এলাকায় প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে থাকা শোধনাগারের ভেতরে-বাইরে এখন পচা বর্জ্য, প্লাস্টিক-পলিথিন আর গৃহস্থালি আবর্জনার স্তূপ।
প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার মানুষের নেত্রকোনা পৌর শহরে প্রতিদিন প্রায় ৪২ মেট্রিক টন বর্জ্য তৈরি হয়। শোধনাগার অচল থাকায় এর বড় অংশ যাচ্ছে রাস্তার পাশে, জনবসতির কাছে কিংবা উন্মুক্ত ভাগাড়ে। দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের; শোধনাগারের আশপাশের বসতবাড়ি, বাসস্ট্যান্ড ও একটি এতিমখানার শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, দুর্গন্ধে ক্রেতারা দোকানে বেশিক্ষণ থাকেন না।
পরিবেশকর্মী অহিদুর রহমানের মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থাপনা অচল পড়ে থাকা এবং তার ভেতরেই বর্জ্য জমা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক; পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ, বাছাই, প্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা না থাকলে এমন প্রকল্প কাজে আসে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মতিন জানান, পৌরসভার সঙ্গে কয়েকবার আলোচনা করে আশপাশে দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা বলেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে শোধনাগারটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কবে চালু হবে, কিংবা দীর্ঘদিন অচল থাকায় যন্ত্রপাতির ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি। প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন বার্তা২৪.কমের নেত্রকোনা প্রতিনিধি।
সূত্র: বার্তা২৪





মন্তব্য
(০)