যে দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী পানি সরিয়ে টিকে আছে, সেই নেদারল্যান্ডস এখন পানি ধরে রাখা শিখছে। দেশটির অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনা উপমন্ত্রী ইয়াপ স্লোটমেকার (Jaap Slootmaker) ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ডাউন টু আর্থের সাক্ষাৎকারে খরা প্রসঙ্গে বলেন, একক কোনো সমাধান নেই, দরকার নানা ব্যবস্থার সমন্বয়।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত ও নেদারল্যান্ডস পানি ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে, যার বিশেষ মনোযোগ গুজরাটের কল্পসর প্রকল্পে কারিগরি সহযোগিতা। প্রকল্পে সবরমতী, মাহী ও ঢাধর নদীর প্রবাহ এবং নর্মদা থেকে আনা পানি দিয়ে একটি মিঠাপানির জলাধার তৈরির পরিকল্পনা আছে। নবম ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার উইকের ফাঁকে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের মন্ত্রীরা বৈঠক করেন।
স্লোটমেকার কল্পসরকে তুলনা করেন আফস্লুইটডাইকের সঙ্গে: ১৯১৬ সালের বন্যার পর তৈরি ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধ ১৯৩২ সালে চালু হয়ে সাগরের একটি অংশ আটকে পেছনে মিঠাপানির হ্রদ তৈরি করে। তাঁর মতে, পানির মান, পলি জমা, মাছের চলাচল ও স্থানীয় মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রায় এক শতাব্দীর শিক্ষা কল্পসরের সিদ্ধান্তে কাজে লাগানো হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের প্রায় ২৫ শতাংশ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে, আরও ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ সাগর থেকে উদ্ধার করা জমি।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম শুষ্কতায় রেকর্ড গড়েছে, যদিও এটিই প্রথম নয়; ২০১৮ সালের খুব শুষ্ক গ্রীষ্মের পর দেশটি খরা মোকাবিলার আলাদা কর্মসূচি নেয়। একসময় দ্রুত পানি সরাতে যেসব ছোট নদী সোজা করা হয়েছিল, সেগুলোর স্বাভাবিক বাঁক ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, যাতে পানি ধীরে বয়ে মাটিতে ঢোকে। সবচেয়ে বড় হ্রদ আইসেলমেরের পানির স্তর বাড়িয়ে বেশি মিঠাপানি জমানো হচ্ছে, শুষ্ক সময়ে আঞ্চলিক পানি বোর্ড ভূগর্ভস্থ পানি তোলা সীমিত করছে, আর স্লুইসগেট আরও নিখুঁতভাবে চালিয়ে মিঠাপানির অপচয় কমানো হচ্ছে।
ইউরোপের দেশগুলো খরার তথ্য ও আগাম সতর্কসংকেত ভাগ করে নিচ্ছে এবং খাবার পানি, কৃষি, শিল্প ও প্রতিবেশব্যবস্থার মধ্যে পানি বণ্টনে অভিন্ন পদ্ধতি তৈরি করছে; রাইন নদীর জন্য আছে রাইন সুরক্ষা আন্তর্জাতিক কমিশন। স্লোটমেকারের আশঙ্কা, এবারের মতো গ্রীষ্ম কয়েক বছর বা দশকের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, জলাধার এলাকা ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে নেদারল্যান্ডস শিখতে পারে; আগামী মার্চে চূড়ান্ত হতে যাওয়া নবায়িত কৌশলগত পানি অংশীদারত্বে খরা একটি বিষয় হতে পারে। দিল্লির ওখলা বর্জ্যপানি শোধনাগারে ভারত-নেদারল্যান্ডস সেন্টার অব এক্সিলেন্স অন ওয়াটারের অধীনে ছয় মাসের একটি হলো-ফাইবার ন্যানোফিল্ট্রেশন প্রদর্শনী প্রকল্পের কথাও জানান তিনি।
ছবি: C messier / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)