উঁচু ভুট্টাখেতের ভেতর দিয়ে শত শত ফুট না হেঁটে ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন উড়িয়ে মাঠের কিনারা থেকেই সেন্টার পিভট সেচযন্ত্র পরিদর্শন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার (Nebraska) কৃষকেরা।
হার্টিংটনের কৃষক স্কাইলস কিনকেইড (Skyles Kinkaid) জানান, একবার শুধু ড্রোন উড়িয়ে জুম করেই ডিজেলচালিত পিভটের ট্যাংকে কত জ্বালানি আছে দেখে নিয়েছেন। তাঁর হিসাবে ছোট ড্রোনের দাম প্রায় ৫,৫০০ ডলার, দ্রুতই খরচ উঠে আসে; নতুন মডেল ৫ মাইল দূর পর্যন্ত চালানো যায়, ফলে এক জায়গা থেকে কয়েকটি পিভট দেখা সম্ভব। পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশনের অ্যাডাম শ্যাংকস বলেন, তাঁর ড্রোনের ১১২ গুণ জুমে ২০০ ফুট দূর থেকেও নাট-বল্টু, ভুট্টার রোগ ও পোকা চেনা যায়।
১৮টি পিভটের নিচে ভুট্টা ও সয়াবিন চাষ করা অ্যাঞ্জেলা নুথ (Angela Knuth) ড্রোন দিয়েই ধরেছেন চাকা চুপসে এক টাওয়ারের আরেকটির গায়ে জড়িয়ে যাওয়া, জিপিএস ত্রুটিতে পিভট খাঁড়িতে পড়ে যাওয়া, ভাঙা ড্রাইভ শ্যাফট ও গিয়ারবক্স বিকল হওয়ার মতো সমস্যা। তাঁর স্বামী কেরি বলেন, ত্রুটি আগে জানায় প্রথমবারেই সঠিক যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম নিয়ে যেতে পেরেছেন; নইলে ফসলের সারি পেরিয়ে ৮০০ ফুট হাঁটতে হতো।
শ্যাংকসের মতে, ইনফ্রারেড ক্যামেরায় ঠান্ডা পানির তাপচিহ্ন দেখে লিক ও বন্ধ নজল খোঁজা যায়, গরম হয়ে ওঠা মোটর বা বিয়ারিংও ধরা পড়ে — ছেঁড়া তারে পিভট বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকিতে যা নিরাপত্তাও বাড়ায়। মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এরিক অ্যান্ডারসন ড্রোনকে বলেছেন 'সুইস আর্মি নাইফ' — ফসল পর্যবেক্ষণ, মাঠের মানচিত্র, গবাদিপশু দেখা থেকে আচ্ছাদন ফসলের বীজ ছিটানো পর্যন্ত নানা কাজে লাগে।
তবে সবাই নিশ্চিত নন। বছরে দুই হাজারের বেশি পিভট পরিদর্শনকারী সেন্ট্রাল ভ্যালি ইরিগেশনের মালিক জেরেমায়া জনসন বলেন, ড্রোন প্রস্তুত করতে ১০ মিনিটের বেশি লাগত, হেঁটে যাওয়াই দ্রুত ছিল; মানুষের জায়গা ড্রোন নেবে কি না — 'হয়তো, তবে এখনো না।' সেচ প্রশিক্ষক লিন্ডন কেলি সতর্ক করেন, যন্ত্রের শেষ প্রান্তে পানির ঘাটতি ধীরে ধীরে হয় এবং আকাশ থেকে তা চোখে পড়া কঠিন।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন অ্যান্ডি কাস্তিলো।
ছবি: Codrin.B / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)