মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, অর্থনৈতিক ধাক্কা আর জলবায়ুর চাপে খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা ভেঙে পড়ছে। এই অবস্থায় জরুরি কৃষি সহায়তার জন্য দ্রুত অর্থ চেয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির হিসাবে গাজা, লেবানন, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ৪ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ সংকট পর্যায়ের বা তার চেয়েও খারাপ ক্ষুধায় আছে।
এফএওর উপমহাপরিচালক বেথ বেকডল (Beth Bechdol), নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আঞ্চলিক প্রতিনিধি আবদুলহাকিম এলওয়ের (AbdulHakim Elwaer) এবং জরুরি ও সহনশীলতা দপ্তরের পরিচালক রেইন পলসেন (Rein Paulsen) জর্ডান, লেবানন ও সৌদি আরবে সরকার, দাতা ও সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই আহ্বান আসে। এফএও বলছে, এসব ধাক্কায় কৃষি অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে, বাজার ভেঙে পড়ছে, আর অর্থের ঘাটতিতে সহায়তাও সীমিত হয়ে পড়ছে।
দেশভিত্তিক চিত্র উদ্বেগজনক। গাজা ও পশ্চিম তীরে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুনে ১২ লাখের বেশি মানুষ সংকট বা তার চেয়ে খারাপ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল; ২০২৭ সালের জন্য এফএও চাইছে ১৪ কোটি ৯ লাখ ডলার। লেবাননে এপ্রিল থেকে আগস্টে ১২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ এমন অবস্থায় পড়বে বলে ধারণা; সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ হাজার কৃষক ও গ্রামীণ পরিবারের কাছে পৌঁছাতে লাগবে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সুদানে ১ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়, অথচ ২০২৬-২০২৮ জরুরি পরিকল্পনার ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মাত্র ২৩ শতাংশ মিলেছে। সিরিয়ায় ২০২৫ সালের শেষে প্রায় ৭২ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল; ৫২ লাখ মানুষকে সহায়তা দিতে ২০২৭ সালে দরকার ১৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। ইয়েমেনে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ সংকট বা তার চেয়ে খারাপ অবস্থায়, আর ২০২৭ সালের পরিকল্পনার ৮ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের ১ শতাংশও এখনো জোগাড় হয়নি।
এফএও যে সহায়তার কথা বলছে, তা মাঠের কাজের: বীজ, পশুখাদ্য, পশুচিকিৎসা, নগদ অর্থ ও ভাউচার, সেচ সহায়তা ও অন্যান্য উপকরণ, যাতে সংকটের মধ্যেও পরিবারগুলো খাদ্য উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি জানায়, গাজায় তাদের সহায়তায় কৃষকেরা আবার চাষ শুরু করেছেন, পশুপালক পরিবারগুলো খাদ্য ও আয়ের উৎস ধরে রেখেছে। সুদানে ২০২৬ সালে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কাছে বীজ, পশুর টিকা, পশুখাদ্য ও উপকরণ ভাউচার পৌঁছেছে।
এলওয়ের বলেন, "বোনার মৌসুমের আগে কৃষক বীজ পেলে, কিংবা পশু মারা যাওয়ার আগে পশুপালক খাদ্য ও চিকিৎসা পেলে আমরা আজকের খাবার আর কালকের উৎপাদনের উপায়, দুটোই রক্ষা করি। কিন্তু সম্পদ সময়মতো না পৌঁছালে এটা কাজ করে না।"
লেবাননে প্রতিনিধিদল ক্ষতি নিজের চোখে দেখেছে। ২০২৬ সালের মার্চে সংঘাত বাড়ার পর ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগ গ্রামের। দক্ষিণের বিন্ত জবাইল, মারজাইয়ুন, নাবাতিয়েহ ও সুর জেলার ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ মানুষ সংকট বা তার চেয়ে খারাপ অবস্থায় পড়তে পারে। দেশটির ২২ শতাংশের বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে, আর দক্ষিণ ও নাবাতিয়েহর প্রায় অর্ধেক কৃষিজমিতে যাওয়াই যাচ্ছে না। নাবাতিয়েহতে এফএওর দল কৃষক, সমবায় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সঙ্গে জমি ও সেচব্যবস্থার ক্ষতি যাচাই করে।
বেকডল বলেন, কৃষি পুনরুদ্ধার জরুরি অবস্থা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না। লেবাননের নতুন ১০ বছরের জাতীয় কৃষি কৌশল ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়তা করছে এফএও, যার লক্ষ্য উৎপাদন ফেরানো, পানির দক্ষ ব্যবহার এবং কৃষি খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো। কৃষক, পশুপালক ও জেলে সম্প্রদায় যেন ক্ষতি স্থায়ী হওয়ার আগেই সহায়তা পায়, সে জন্য দাতাদের সহায়তা বজায় রাখা ও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: এফএও নিউজরুম




মন্তব্য
(০)