জ্বালানির দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক করেছেন কৃষি অর্থনীতিবিদেরা। ২২ সেপ্টেম্বর কানসাস সিটির এক কৃষি সম্মেলনে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রধান অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, কৃষকেরা বাড়তি এককালীন সহায়তা চাইছেন না। খবরটি দিয়েছে ডিটিএন।
মার্কিন মোটর সংস্থা এএএর হিসাবে সেদিন ডিজেলের খুচরা গড় দাম রেকর্ড ৬.৫২ ডলার প্রতি গ্যালনে ওঠে। ইউএসডিএর প্রধান অর্থনীতিবিদ জাস্টিন বেনাভিদেস বলেন, উৎপাদন খরচে এটি বড় ও বাড়তে থাকা খাত; হরমুজ প্রণালির সংঘাত ও রাশিয়ার শোধনাগারের ক্ষতিকে তিনি সরবরাহ সংকটের কারণ বলেন। যুক্তরাষ্ট্র তার পরিশোধিত ডিজেলের প্রায় ২৫ শতাংশ রপ্তানি করে, আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন এবং শিগগির সিদ্ধান্ত আসবে।
বেনাভিদেসের মতে, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন। ন্যাশনাল কর্ন গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এনসিজিএ) প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টা সোয়ানসন সতর্ক করেন, এতে দাম না-ও কমতে পারে, উল্টো মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর পাল্টা ব্যবস্থা আসতে পারে। ইউএসডিএর সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ স্কট মেয়ার বলেন, এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন ফুরোলেও সহজে যায় না।
এনসিজিএ ও আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের (এএসএ) যৌথ জরিপে ১,২০০-র বেশি কৃষকের ৪৬ শতাংশ বলেছেন, এক বছর আগের চেয়ে তাঁরা আর্থিক অবস্থা নিয়ে বেশি চিন্তিত—গত বছর যা ছিল ৬৫ শতাংশ; ২৬ শতাংশ জানেন না ২০২৭ সালের ফসলে বাড়তি উপকরণ খরচ কীভাবে সামলাবেন। বেশির ভাগ চাষি ভুট্টা ও সয়াবিনে সামান্য লাভ বা কেবল খরচ ওঠার আশা করছেন। এএসএর প্রধান অর্থনীতিবিদ স্কট গারল্ট বলেন, এই উপকরণ খরচে যাঁদের ঋণ বেশি, তাঁদের হিসাব মিলছে না।
সারের বিষয়ে স্টোনএক্সের জশ লিনভিল স্থলবেষ্টিত বেলারুশ থেকে সস্তা পটাশ আনার ধারণা নাকচ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ শতাংশ পটাশ আসে কানাডা থেকে। পটাশের গড় দাম টনপ্রতি ৪৯৫ ডলার, অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়া ৯৪৫ ডলার—গত বছরের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি। বেনাভিদেস জানান, অনেক উৎপাদক নতুন এককালীন সহায়তার বদলে নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিগুলো কাজ করুক, সেটাই চান; ২০২৫ সালের ফসলের জন্য এআরসি ও পিএলসি কর্মসূচির অর্থ অক্টোবরে যাবে, যা ১,৫০০ কোটি ডলার ছাড়াবে বলে ধারণা। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ক্রিস ক্লেটন।
ছবি: Bob Nichols, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: DTN / Progressive Farmer




মন্তব্য
(০)