উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) কর্নার থেকে বিনামূল্যে যে পাঁচ ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়, তার মজুত ফুরিয়ে আসছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৪৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতেই এর কোনো না কোনোটির ঘাটতি আছে, আর যা আছে তা-ও অক্টোবরে শেষ হবে। সমকাল ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এ সংকটের সত্যতা পেয়েছে।
জামালপুর সদরের ৩২ বছর বয়সী গৃহবধূ ফাতিমা বেগম প্রতি মাসে এনসিডি কর্নার থেকে এক মাসের ওষুধ পেতেন; গত মাসে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের ৭০ বছর বয়সী করীম আলী এখন পাচ্ছেন ১০ দিনের ওষুধ, বাকিটা কিনতে হচ্ছে ফার্মেসি থেকে।
২০১৮ সালে চালু এনসিডি কর্নার এখন ৪৪৬ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৩০টি জেলা হাসপাতালে সেবা দেয়। নিবন্ধিত রোগী ১৪ লাখ ৮০ হাজার ১১৭ জন; এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৮৭ এবং ডায়াবেটিসের ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৯৩ জন। নিয়মিত ওষুধে ৬১ শতাংশ রোগীর রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ জানান, এনসিডি কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় হাসপাতালগুলোকে নিজেদের বাজেটে এই ওষুধ কিনতে বলা হয়েছে, কিন্তু উপজেলা হাসপাতালের বাজেট সীমিত। গত ১৬ মার্চ ৬০ দিনের মধ্যে মজুত শেষ হওয়ার কথা জানিয়ে ১০০ কোটি টাকা চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও সাড়ে ছয় মাসে তা মেলেনি, আর মেলার সম্ভাবনাও নেই বলে জানান তিনি। তাঁর হিসাবে প্রায় ৭০ শতাংশ রোগী এমনিতেই নিজের টাকায় ওষুধ কেনেন; সংকটে এ হার সর্বোচ্চ আরও ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাতে হৃদ্রোগ ও জটিলতার ঝুঁকি বাড়বে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৫ দশমিক ৩ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উঠেছে; বাড়তি বরাদ্দের বড় অংশ উচ্চ রক্তচাপের ওষুধে খরচ হলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে তা কাজে আসবে।
গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজের ২০২২ সালের হিসাবে বাংলাদেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হৃদ্রোগ, প্রতি ১০০ জনে ৩৬ জন। ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের দেশভিত্তিক প্রোফাইলে আইএইচএমইর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে হৃদ্রোগে ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব হার্ট দিবসে (২৯ সেপ্টেম্বর) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সমকাল।
প্রতিবেদনটি সমকালের।
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)