ধানের জেলা নওগাঁয় ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা হওয়ায় সেচ, জমি চাষ, মাড়াই ও ফসল পরিবহনে খরচ বাড়ছে কৃষকের। কৃষকদের হিসাবে এসব খাত মিলিয়ে বিঘাপ্রতি বাড়তি ১ হাজার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হতে পারে; তাতে আসন্ন বোরো মৌসুমে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
নওগাঁয় ধান, সবজি ও নানা অর্থকরী ফসলে ডিজেলচালিত সেচপাম্প, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ও মাড়াইযন্ত্র ব্যবহৃত হয়, তাই জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ছে উৎপাদন ব্যয়ে। সদর উপজেলার শিকারপুরের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, শুধু সেচেই বিঘায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি লাগতে পারে; সব মিলিয়ে অন্তত ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ‘বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম আগেই বেড়েছে। এখন জমি তৈরি থেকে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত সব খাতেই খরচ বাড়ছে,’ বলেন তিনি।
মহাদেবপুরের বৃন্দারামপুরের কৃষক আসিব আলী জানান, এলাকার জমি উঁচু হওয়ায় সেচে বেশি পানি লাগে; সেচে বিঘায় প্রায় ১ হাজার টাকা এবং চাষ, মাড়াই ও পরিবহনে আরও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বাড়তে পারে। রানীনগরের বর্গাচাষি সাইদুজ্জামানের হিসাবে সেচে ৭০০-৮০০ টাকা, জমি প্রস্তুত ও মাড়াইয়ে ৭০০-৯০০ টাকা বাড়বে। ‘ধানের দাম সেই অনুপাতে বাড়বে কি না, তা তো জানা নেই,’ বলেন তিনি।
মান্দার গণেশপুরের কৃষক আব্দুল কাদের হিরা বলেন, চাষের শুরু থেকে বাজারে নেওয়া পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি কাজে ডিজেল লাগে, তাই ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র ও মাড়াইযন্ত্রের ভাড়া বাড়বে। কৃষকেরা বলছেন, এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে বর্গাচাষিদের ওপর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়তে পারে, তবে সরকারি প্রণোদনা ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেচের খরচ কমাতে কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয় কমে।
বাসদের জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন মুকুল কৃষি খাতে বিশেষ জ্বালানি ভর্তুকি বা সহজ শর্তে প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন। কৃষকদের দাবি, বোরো মৌসুম শুরুর আগেই সেচ ও কৃষিযন্ত্রের ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রতিবেদন: সমকাল।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)