শেরপুরের নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে সংরক্ষিত বনভূমি দখল ও নির্বিচারে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি চক্র রাতে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া পাহাড়ি বনের গাছ কেটে দিনে কাঠ পাচার করছে, এবং এতে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ আছে।
ময়মনসিংহ সদর রেঞ্জের গোপালপুর বিটের আওতায় ২,০০৩.৭৯ একর বনভূমি রয়েছে। কালাকুমা, জঙ্গলিয়াপাড়া, বিশগিরিপাড়া ও আনন্দবাজারের মতো এলাকায় একসময়ের ঘন বন বছরের পর বছর দখল ও গাছ কাটায় উজাড় হয়েছে; কোথাও কাটা গাছের গুঁড়ি, কোথাও বসতি বা কৃষিজমি। কালাকুমা বাওইবাধায় বন বিভাগের প্রায় ৩০ শতাংশ জমির আকাশমনি বাগান দখলের পর গাছ কেটে সেখানে মেহগনির চারা লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
সামাজিক বনায়নের অংশীদারেরাও অভিযোগ করেছেন, গাছ বিক্রির পর চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থের চেক দেওয়ার কথা বলে ‘৯১ বাগান’-এর ১০০ অংশীদারের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ এবং ‘৯০ বাগান’-এর ৬৬ অংশীদারের কাছ থেকে দুই দফায় মোট ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো চেক মেলেনি।
স্থানীয়রা এসব ঘটনায় গোপালপুর বিট কর্মকর্তা আব্দুল বারীর যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন। বিট কর্মকর্তা চেকের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, গাছ চুরির খবর তাঁরা পেয়েছেন এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা গারো পাহাড়ের অবশিষ্ট বন রক্ষায় দখল উচ্ছেদ, গাছ কাটা বন্ধ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনটি আমাদের সময়ের শেরপুর প্রতিনিধি তপু সরকার হারুনের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে লেখা।
সূত্র: আমাদের সময়





মন্তব্য
(০)