হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের বাজারে সাতকরার দাম বেড়েছে। মহাসড়কের পাশে দেবপাড়া ও আউশকান্দি বাজারে আকারভেদে এক হালি সাতকরার দাম চাওয়া হচ্ছে ৮০ থেকে ২০০ টাকা। আউশকান্দির কাজল মিয়া জানান, সপ্তাহখানেক আগেও যে সাতকরা ৮০ টাকা হালি ছিল, দরদাম করে তা তিনি কিনেছেন ১৮০ টাকায়।
সিলেট অঞ্চলের এই সুগন্ধি টক ফলের বড় ক্রেতা লন্ডনে থাকা প্রবাসীরা। দেবপাড়া বাজারে সাতকরা কিনতে আসা লন্ডনপ্রবাসী গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, দেশে দেড়শ থেকে দুইশ টাকায় এক হালি ভালো সাতকরা মেলে, অথচ লন্ডনে এক হালি কিনতে ২০ থেকে ২৫ পাউন্ড—টাকায় তিন থেকে চার হাজার—লাগে। তাই বেশি করে কিনে শুকিয়ে সঙ্গে নিয়ে যাবেন।
দেখতে কমলার মতো গোলাকার কিন্তু আকারে বড় সাতকরার খোসা পুরু, শাঁস খুব কম; ঘ্রাণই এর বৈশিষ্ট্য। লেবুগাছের মতো কাঁটাভরা গাছটি ২০ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়; ফাল্গুনে ফুল আসে, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে ফল হয়।
ফলটির আদি নিবাস ভারতের আসামের পাহাড়ি এলাকা। একসময় নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, জৈন্তাপুর, জাফলং, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ছাতক, বড়লেখা, কোম্পানীগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জের টিলায় সাতকরার চাষ হতো। এখন বেশি চাষ হয় ভারতের মেঘালয় ও আসামে। সিলেটের সীমান্ত দিয়ে আমদানির তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে ২১৬ টন সাতকরা আসে; অবৈধভাবেও সীমান্ত পার হয়ে আসে।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি বলেন, সিলেটের সব জায়গায় সাতকরার চাহিদা খুব বেশি। নবীগঞ্জের দিনারপুরের পাহাড়ি এলাকা সাতকরা চাষের উপযোগী, সেখানে চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।
প্রতিবেদন: নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, সমকাল।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)