গাছ লাগানোর পর সেটি বাঁচল কি না, সেই হিসাব রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জিআইএস ও স্যাটেলাইটভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে আই হ্যাভ ও প্ল্যান ফাউন্ডেশন। বাংলাভিশন জানিয়েছে, ‘মাই ট্রি অ্যাপ’ নামের এই অ্যাপকে উদ্যোক্তারা দেশের প্রথম এআইভিত্তিক ডিজিটাল ট্রি মনিটরিং অ্যাপ বলছেন। লক্ষ্য, বৃক্ষরোপণকে শুধু গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে সীমিত না রেখে প্রতিটি গাছের ডিজিটাল পরিচয়, তথ্য সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
সমস্যাটা পরিচিত: রোপণের সংখ্যা গোনা হয়, কিন্তু কতটি গাছ টিকে থাকে, তার হিসাব থাকে না। সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে; এত বড় কর্মসূচিতে রোপিত গাছের অবস্থান, তথ্য সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও টিকে থাকার হার নিশ্চিত করাও জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কর্মসূচির মনিটরিংয়ে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, জাতীয় ট্রি ডেটাবেজ ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ও রয়েছে।
অ্যাপটি যেভাবে কাজ করবে: গাছ লাগানোর সময় তার প্রজাতি, রোপণের তারিখ, রোপণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, অবস্থান ও ছবি ডিজিটালি সংরক্ষণ হবে, আর প্রতিটি গাছের জন্য থাকবে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ট্রি আইডি। পরে পরিচর্যা, বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার তথ্য যুক্ত করা যাবে। পরিকল্পনায় আছে এআইভিত্তিক গাছ যাচাই, জিপিএস ও জিআইএস ম্যাপিং, স্যাটেলাইট ও এনডিভিআই পর্যবেক্ষণ, ড্রোনে নজরদারি এবং ট্রি সারভাইভাল ট্র্যাকিং।
এর বাইরে ডিজিটাল ট্রি সার্টিফিকেট, কার্বন ডেটা ও কার্বন ক্রেডিট সহায়তা, ড্যাশবোর্ড ও ডেটা অ্যানালিটিকস, লিডারবোর্ড ও গেমিফিকেশন এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্যোক্তাদের মূল ধারণা, ‘একটি গাছ, একটি ডিজিটাল পরিচয়; প্রতিটি রোপণ, একটি যাচাইযোগ্য ডিজিটাল রেকর্ড’।
দীর্ঘমেয়াদে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক সংগঠন আর সাধারণ নাগরিকের লাগানো গাছের তথ্য নিয়ে একটি সমন্বিত ন্যাশনাল ট্রি ডেটাবেজের ভিত্তি তৈরি করতে চান উদ্যোক্তারা। এতে কোন এলাকায় কত গাছ, কোন প্রজাতি, কে লাগিয়েছে আর গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা কী, তা বিশ্লেষণ করা যাবে; বৃক্ষরোপণে তথ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে বলে তাঁদের আশা।
এটি এখনো তৈরির পর্যায়ের একটি উদ্যোগ; বাস্তবে কতটা কাজ করবে তা নির্ভর করবে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর, প্রতিবেদনেও সে কথা বলা হয়েছে।
ছবি: ইব্রাহিম হাসান / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলাভিশন





মন্তব্য
(০)