বাচ্চার অসুস্থতায় মা হাতি গাছের পাতা ও শিকড় চিবিয়ে নিজের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথা বলছে নতুন এক গবেষণা। পশ্চিম কেনিয়ার মাউন্ট এলগনের গুহাবাসী হাতিদের আচরণ দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেখে আসা স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বর্ণনার ভিত্তিতে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছেন জার্মানির হামবুর্গের বার্নহার্ড নকট ইনস্টিটিউট ফর ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা।
গবেষণায় বলা হয়েছে, মাউন্ট এলগনের হাতিরা অন্তত ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ ব্যবহার করে। এক স্থানীয় বন্য প্রাণী স্কাউট জানান, তিনি হাতিদের ‘আঙ্গুরউইট’ নামের একটি উদ্ভিদ ব্যবহার করতে দেখেছেন, যা স্থানীয়ভাবে পেটব্যথাসহ নানা অসুখে ব্যবহৃত হয়। তার বর্ণনায়, মা হাতি পাতা ছাড়িয়ে চিবিয়ে নরম করে, অন্য গাছের শিকড়ও মেশায়, তারপর দুধের সঙ্গে খাওয়ায়; বাচ্চারা শক্ত অংশ ফেলে দেয়।
গবেষকদের মতে, এসব প্রত্যক্ষ বর্ণনা ইঙ্গিত দেয় যে হাতিরা এলোমেলোভাবে নয়, শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঔষধি উদ্ভিদ বেছে নিতে পারে; আফ্রিকান হাতিদের স্ব-চিকিৎসার ক্ষমতা আগের ধারণার চেয়ে জটিল হতে পারে। তবে হাতিরা সত্যিই উদ্দেশ্য নিয়ে বাচ্চাদের নির্দিষ্ট অসুখের ‘ওষুধ’ বানায় কি না, তা এখনো প্রমাণিত নয়; আচরণগত, আণবিক ও ফার্মাকোলজিক্যাল পর্যায়ে আরও বড় গবেষণার পরিকল্পনা চলছে।
কেনিয়া-উগান্ডা সীমান্তের মাউন্ট এলগনের হাতিরা গভীর গুহায় ঢুকে দাঁত দিয়ে দেয়াল খুঁড়ে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো খনিজ সংগ্রহের জন্য আগে থেকেই পরিচিত, কারণ আশপাশের বনের উদ্ভিদে এসব খনিজের ঘাটতি আছে। এর আগে ২০২৫ সালে গ্যাবনের বন হাতি নিয়ে এক গবেষণায় দেখা যায়, পরজীবী বেশি থাকা হাতিরা কলাগাছের কাণ্ড ও পেঁপেগাছ বেশি খায়, যাতে অন্ত্রের পরজীবীর ওপর প্রভাব ফেলা যৌগ আছে।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. এলডি ফ্রেইম্যান বলেন, এ ধরনের গবেষণা প্রশ্ন তোলে, বন উজাড়ের ফলে প্রাণী ও মানুষ দুই পক্ষই প্রাকৃতিক ওষুধের উৎস হারাচ্ছে কি না। জাপানের নাগাসাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমেটোলজিস্ট অধ্যাপক মাইকেল হাফম্যান গবেষণাটিকে আকর্ষণীয় বললেও মনে করেন, হাতিরা বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজনমতো চিকিৎসা তৈরি করে, এটি নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ লাগবে।
ছবি: Manyarakinoti / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)