প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় এ বছর ২৩ আশ্বিন থেকে ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ (৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত মোট ২২ দিন ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬’ চলবে। এ সময় সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, কেনাবেচা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে গেজেট জারি করবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভার কার্যবিবরণী ২৩ সেপ্টেম্বর মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
সভায় মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর ও বিভাগীয় দপ্তরগুলো থেকে নিষেধাজ্ঞার ছয়টি ভিন্ন সময়ের প্রস্তাব আসে। বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক জানান, আশ্বিনের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা বিবেচনা করে গবেষণার ভিত্তিতে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রস্তাব করা হয়েছে; ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার তথ্যমতে, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মা ইলিশ এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ডিম ছাড়ে। দুই মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিও এ সময়ে একমত হন।
অভিযান চলবে ইলিশের বিচরণপথের ৩৮টি জেলায়। এর মধ্যে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মুন্সিগঞ্জ—এই ২০ জেলার নদী, মোহনা ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে এবং এসব জেলার বরফকলও বন্ধ থাকবে। বাকি ১৮ জেলার নদীতে কেবল ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে।
নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বিমানবাহিনী, নৌপুলিশ, র্যাব, বিজিবি, জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত চলবে; ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সেখানে অস্থায়ী ক্যাম্প বসিয়ে ও রাতেও অভিযান চালানো হবে। ইলিশের গতিপথের বাইরেও সারা দেশের বাজার ও আড়তে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত জেলে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি হারে ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়। সভায় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই চাল বিতরণ শেষ করার অনুরোধ জানান; ভোলার জেলা প্রশাসক চালের বদলে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির একজন পরিচালক নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখতে সার্কুলার জারির আশ্বাস দেন।
পরের বছর থেকে অভিযানের যথাযথ সময় নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের জন্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন সভাপতি।
ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: মৎস্য অধিদপ্তর





মন্তব্য
(০)