ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সড়কদ্বীপে লাগানো জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, করবীর মতো ফুলগাছ কেটে সেখানে সবজি চাষ করছেন আশপাশের মানুষ। ২৭ সেপ্টেম্বর মিরসরাই অংশে বড় দারোগারহাট থেকে ধুমঘাট সেতু পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার ঘুরে প্রথম আলো দেখেছে, সড়ক বিভাজকের ১১৩ স্থানে বেগুন, ঢ্যাঁড়স, করলা, শিম, ধুন্দুল, ঝিঙে, লালশাক, পুঁইশাক, মুলাশাক ও কচুমুখি আবাদ হয়েছে; কোথাও লাগানো হয়েছে কলা, সজনে, আম ও কাঁঠালের চারা।
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগ জানায়, সবুজায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও ছায়ার জন্য ২০১৬ সালে মহাসড়কের ২৬৫ কিলোমিটারের বড় অংশে ৫০ হাজারের বেশি ফুলগাছ লাগানো হয়েছিল, যার মধ্যে কাঞ্চন, করবী, রাধাচূড়া, জারুল, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম ও পলাশ রয়েছে। সবজির জমি বানাতে এর শত শত গাছ কাটা হয়েছে। বিএসআরএম গেট, সোনাপাহাড়, ঠাকুর দিঘি, মিঠাছড়া বাজার, পূর্ব কিসমত জাফরাবাদসহ কয়েকটি এলাকায় আবাদ সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয়রা জানান, কেউ পরিবারের চাহিদা মেটাতে অল্প জায়গায় চাষ করলেও অনেকে বড় জায়গা দখল করে বাণিজ্যিকভাবে সবজি ফলাচ্ছেন। পূর্ব কিসমত জাফরাবাদে করবীর ডাল কেটে মুলাশাক চাষ করা কৃষক মো. আবু তাহেরের দাবি, তিনি ক্ষতি করছেন না, বরং জায়গাটি পরিষ্কার রাখছেন; প্রতি আঁটি মুলাশাক বাজারে ৩০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।
সুবাহ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক রিতু পারভী বলেন, দুই বছর ধরে সবজি চাষের জন্য গাছগুলো কোথাও কেটে, কোথাও পুড়িয়ে নষ্ট করা হচ্ছে; কয়েকবার জানানো হলেও সড়ক বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর দাবি, কাটা গাছের জায়গায় একই প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে, আর লতানো সবজির ঝোপ চালকের দৃষ্টিসীমা আটকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কিছু জায়গায় স্থানীয় লোকজন সবজি চাষ করে গাছের ক্ষতি করেছেন বলে তিনি জেনেছেন; দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে।
সরকারি জমিতে খণ্ডকালীন চাষ কৃষকের বাড়তি আয়ের পথ হলেও, মহাসড়কের সৌন্দর্য, ছায়া আর নিরাপত্তার জন্য লাগানো গাছ কেটে সেই আয় করা আইনসম্মত নয়, প্রতিবেদনের মূল কথা এটাই। প্রতিবেদনটি করেছেন মিরসরাই প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)