মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের কৃষক মো. মিঠু এত দিন সবজি, আম, কলা ও পেয়ারা চাষ করতেন। ইউটিউবে অন্যের বাগানে প্যাশন ফল, স্থানীয়ভাবে যার নাম আনারকলি, দেখে তিনি নিজের জমিতে এর চাষ শুরু করেন। চলতি বছর দেড় বিঘা জমিতে ২৩০টি চারা লাগানোর পাঁচ মাসের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল এসেছে। এগ্রি বার্তা বাসসের বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অঞ্চলের এই টক জাতীয় ফল কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়; চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় দেশে এর বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে।
মিঠু জানান, ভিডিও দেখে আর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জমি চাষ দিয়ে জৈব সার মিশিয়ে প্রস্তুত করেন। ঝিনাইদহ থেকে চারা এনে রোপণের পর লতানো গাছ বাঁশের মাচায় তুলে দেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, এ গাছে বেশি সেচ লাগে না, তবে নিয়মিত পরিচর্যা ও মাচা দরকার। জমি প্রস্তুত, চারা, মাচা ও পরিচর্যা মিলিয়ে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা।
‘প্রথমদিকে ভয় ছিল, ফল হবে তো? এখন গাছে ফল দেখে সেই ভয় অনেকটাই কেটে গেছে,’ বলেন মিঠু। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিক্রি শুরু করার আশা তাঁর; বাজারে দাম ভালো থাকলে এ মৌসুমে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।
গোভীপুরের কৃষক এনামুল হক বলেন, শুরুতে গ্রামের মানুষ এই চাষ বুঝতে পারেননি, এখন গাছে প্রচুর ফুল-ফল দেখে আগ্রহ বাড়ছে; উৎপাদন খরচ আর রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কম হলে এটি কৃষকদের জন্য ভালো সম্ভাবনা হতে পারে, তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শ চান তিনি। বাগান দেখতে আসা সাইয়েদাতুন নেসা নয়ন ও মাহমুদা আক্তার বলেন, ফলটি দেখতে সুন্দর, খেতেও ভালো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, মেহেরপুরে এ ফলের চাষ সফল করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে এবং স্থানীয় পরিবেশে এর সম্ভাবনা বিবেচনা করে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে।
ছবি: Enoch Lau / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রি বার্তা





মন্তব্য
(০)