বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক কলামে শফিক আর. ভূঁইয়া লিখেছেন, ২০২৬ সালের হামের প্রাদুর্ভাব শুধু টিকাদান নয়, জনস্বাস্থ্য যোগাযোগ নিয়েও ভাবতে বাধ্য করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে দেশে ১৮ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হামের রোগী ও ১৬৪টি সন্দেহভাজন মৃত্যু শনাক্ত হয়েছিল, আক্রান্তদের বড় অংশ পাঁচ বছরের কম বয়সী।
লেখকের মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স ছিল নয় মাসের কম, অথচ নিয়মিত সূচিতে হাম-রুবেলার প্রথম টিকা দেওয়া হয় নয় মাসে। তাই শুধু ‘টিকা নেয়নি’ বললে পুরো ছবি পাওয়া যায় না। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অবস্থানও উল্লেখ করেছেন: জরুরি টিকাদান বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত সুরক্ষা দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী নিয়মিত টিকাদানের বিকল্প নেই।
শিশুর রোগ প্রতিরোধের গল্প টিকাকেন্দ্রে নয়, শুরু হয় গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টি, জন্মের পর দ্রুত বুকের দুধ, প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ এবং পরে বয়স উপযোগী বৈচিত্র্যময় খাবার দিয়ে, লিখেছেন তিনি। অপুষ্টি সংক্রমণের সঙ্গে লড়াইয়ের সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে।
এসব বার্তায় দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন লেখক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের জাতীয় গৃহস্থালি জরিপে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর মাত্র ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ শুধু বুকের দুধ পাচ্ছে, ২০১৯ সালে যা ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ শুরুর হার ৪৬ দশমিক ৬ থেকে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। ছয় থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুর মাত্র ৩০ শতাংশ ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পাচ্ছে। আগস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ এ প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
লেখকের প্রশ্ন, মায়েরা কি সন্তানের জন্মের আগেই এসব কথা বারবার শুনছেন, পরিবার কি জানে কোন টিকা কখন দিতে হয় আর বাদ পড়লে কোথায় যেতে হয়? তাঁর মতে জনস্বাস্থ্য শুধু হাসপাতাল ও টিকাকেন্দ্রের বিষয় নয়, যোগাযোগেরও বিষয়; সঠিক সময়ে তথ্য না পৌঁছালে পরে হাসপাতালকে তার পরিণতি সামলাতে হয়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও মশা বাড়ার পরে প্রচারণা না করে আগেই নিয়মিত আচরণ বদলের বার্তা পৌঁছানোর কথা বলেছেন তিনি।
মতামত লেখকের নিজস্ব। কলামটি বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)