যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ (Michigan Department of Agriculture and Rural Development, MDARD) পাঁচটি গবেষণা প্রকল্পে ১৯ লাখ ডলার দিচ্ছে। লক্ষ্য, খামারের মাটি, পানি ও ফসলে পিএফএএস নামের ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ নিয়ে কৃষকদের হাতে কাজে লাগার মতো উত্তর তুলে দেওয়া।
গবেষণাগুলো সাজানো হয়েছে কৃষকদের চারটি প্রশ্ন ঘিরে: মাটি ও পানিতে কতটা পিএফএএস আছে, কোন ফসল তা বেশি শোষণ করে, কোন চাষপদ্ধতিতে তা কমে এবং দ্রুত ও কম খরচে কীভাবে তা পরীক্ষা করা যায়।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি (Michigan State University) পাচ্ছে ৪ লাখ ডলার। তারা ভুট্টা ও সয়াবিনের মাঠে পিএফএএসের মাত্রা মাপবে এবং রাই জাতীয় আচ্ছাদন ফসল (কাভার ক্রপ) ও কম চাষ মাটি ও পানিতে এর ছড়িয়ে পড়া ঠেকায় কিনা, তা পরীক্ষা করবে। ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি পাচ্ছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯০ ডলার, একটি সস্তা সেন্সর তৈরির জন্য, যা দিয়ে কৃষক খামারেই সেচের পানি ও মাটির নমুনা পরীক্ষা করতে পারবেন।
মিশিগান টেক বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয় ও কিউইনো বে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ ডলারে দেখবে, মাছের কম্পোস্ট বাগানের সবজিতে পিএফএএসের মাত্রায় কী প্রভাব ফেলে এবং কোন ফসল সবচেয়ে বেশি শোষণ করে। এমোরি ও মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ ডলারে চালু খামারে মাটি, ফসল ও বাতাসের মধ্য দিয়ে ৮০ ধরনের পর্যন্ত পিএফএএসের চলাচল অনুসরণ করবে। আর ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় ৪ লাখ ডলারে খুঁজবে বাতাস, পানি, বালাইনাশক ও গোবরের মধ্য দিয়ে এই রাসায়নিক কীভাবে মাঠে পৌঁছায়।
বিভাগের পরিচালক টিম বোরিং বলেছেন, ‘আমরা এমন গবেষণায় বিনিয়োগ করছি, যা কৃষকদের জমি, গবাদিপশু ও জীবিকাকে পিএফএএস থেকে রক্ষার বাস্তব সমাধান দেবে।’
পিএফএএস প্রাকৃতিকভাবে ভাঙে না; মাটি, পানি ও গবাদিপশুর দেহে জমতে থাকে। দীর্ঘ সময় এর সংস্পর্শ মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে যুক্ত বলে দেখা গেছে। বিভাগ জানিয়েছে, কৃষিকেন্দ্রিক পিএফএএস গবেষণায় অর্থ দেওয়া প্রথম দিকের অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি মিশিগান। অঙ্গরাজ্যের প্রথম পিএফএএস সচেতনতা সপ্তাহে (২১-২৫ সেপ্টেম্বর) এই অনুদানের ঘোষণা আসে।
প্রতিবেদনটি ফার্ম প্রগ্রেসে প্রকাশিত এমডিএআরডির ঘোষণার ভিত্তিতে লেখা।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)