আধা-স্বচ্ছ, ম্যাজেন্টা রঙের সৌর প্যানেলের নিচে চাষ করা ব্রকলি খোলা মাঠের ব্রকলির চেয়ে প্রায় সাড়ে চার গুণ দক্ষতায় সূর্যের আলো কাজে লাগিয়েছে। সুইডেনের ভেস্টেরোসে মেলারডালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ ফল পেয়েছেন। সিলভিয়া মা লুর (Silvia Ma Lu) নেতৃত্বে করা গবেষণাটি ২ অক্টোবর সেল রিপোর্টস ফিজিক্যাল সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। একই জমিতে বিদ্যুৎ ও খাদ্য দুটোই উৎপাদনের পক্ষে এটি নতুন প্রমাণ।
কীভাবে কাজ করে: প্যানেলগুলো ক্যাডমিয়াম টেলুরাইডের পাতলা সৌরকোষ, যা আলোকে রং অনুযায়ী ছেঁকে নেয়। সালোকসংশ্লেষণে গাছের সবচেয়ে দরকারি লাল ও নীল আলো নিচে ফসলের কাছে যেতে দেয়, আর বাকি আলোর একাংশ দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। দলটি ম্যাজেন্টা, লাল ও নীল প্যানেল পরীক্ষা করেছে। মূলত সবুজ আলো আটকানো ম্যাজেন্টা প্যানেলে ব্রকলির ফল সবচেয়ে ভালো হয়েছে; সবুজ আলো সৌরকোষ এমনিতেও ভালো কাজে লাগাতে পারে না। গবেষকেরা একে সূর্যের আলোকে দুই কাজে ইচ্ছা করে ভাগ করে দেওয়া বলছেন।
খরচও আছে। ম্যাজেন্টা প্যানেলের নিচের ব্রকলি তুলতে ২৫ দিন বেশি লেগেছে, যদিও আকারে তা প্রায় সমান হয়েছে। একই জমিতে সাধারণ প্যানেলের তুলনায় এ প্যানেল বছরে হেক্টরপ্রতি প্রায় ১০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা কম বিদ্যুৎ দিয়েছে। গবেষণা নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ রমেশ রায়ুডু (Ramesh Rayudu) বলেন, আসল প্রশ্ন হলো বাড়তি ফসলের মূল্য হারানো বিদ্যুতের চেয়ে বেশি কি না; তা ফসল, বিদ্যুতের দাম ও জলবায়ুভেদে আলাদা হবে।
এ পর্যন্ত বেশিরভাগ এগ্রিভোলটাইক ব্যবস্থায় নিরপেক্ষ আধা-স্বচ্ছ প্যানেল বা উঁচু কাঠামো ব্যবহার হয়, যা শুধু ছায়া দেয়। ফসলের আলোর চাহিদা অনুযায়ী প্যানেলের রং ঠিক করার এ পদ্ধতি ফসলভেদে আলাদা নকশার পথ দেখায়। গবেষণার অর্থ দিয়েছে সুইডেনের জে. গুস্ট রিচার্ট ফাউন্ডেশন, সুইডিশ জ্বালানি সংস্থা, নলেজ ফাউন্ডেশন ও কার্বন২ফুড উদ্যোগ।
এটি এখনো ছোট মাঠপরীক্ষা, আর ভিন্ন আলোর চাহিদা বা জীবনচক্রের ফসলে ব্রকলির মতো ফল নাও মিলতে পারে। রঙিন পাতলা সৌরকোষ বানাতে সাধারণ প্যানেলের চেয়ে খরচও বেশি, যার সমাধান গবেষণায় নেই। তবু অন্য ফসল ও জলবায়ুতে যাচাইয়ের জন্য এগ্রিভোলটাইক উদ্যোক্তারা এখন একটি মাপা দক্ষতার হিসাব পেলেন।
ছবি: UC Davis College of Engineering / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)