ভারতের মধ্যপ্রদেশের মালওয়া অঞ্চলের চিরকালীন পানি-সংকটের জেলা দেওয়াসে ২০০৬ সাল থেকে কৃষকেরা আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার খামার পুকুর খুঁড়েছেন। এতে বৃষ্টির পানি জমিতেই ধরে রাখা যাচ্ছে, দ্বিতীয় ফসলের সেচ নিশ্চিত হয়েছে, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। সরকারি কোনো হিসাব নেই; বিশেষজ্ঞদের অনুমান প্রায় ৩০ হাজার।
পুকুর এনেছে নতুন আয়। নিপানিয়া গ্রামের পোপ সিং জানান, এক বছর পরপর তিনি প্রায় ৫০ টন মাছ ধরেন, যার দাম প্রায় ১ কোটি রুপি। খুব গ্রামের বলরামজি প্যাটেল গত বছর ২৩ লাখ রুপির চিয়া বীজ বিক্রি করেছেন, আর ধাতুরিয়া গ্রামের সুভাষ জলোটিয়া ২০২৫ সালে বিক্রি করেছেন ৬০ লাখ রুপির গম। অনেকে উন্নত জাতের গরু কিনে দুগ্ধ খামারও শুরু করেছেন।
পুকুরের আগে সেচের ভরসা ছিল নলকূপ। আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের (আইডব্লিউএমআই) গবেষণায় দেখা যায়, জেলায় নলকূপ ছিল ১৯৯০ সালে ৩ হাজার ৮৮৭টি, ১৯৯৮ সালে ১৪ হাজার ১৭২টি এবং ২০০৯-১০ সালে ২৩ হাজার ১১৯টি; সেচের প্রায় ৮২ শতাংশ আসত ভূগর্ভস্থ পানি থেকে। কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ পানি বোর্ডের ২০২৩ সালের মূল্যায়নে দেওয়াস 'অতিশোষিত' জেলা: পুরো জেলায় পুনর্ভরণের ৭৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং দেওয়াস ব্লকে ১১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ পানি তোলা হয়।
বদলের শুরু ২০০৬ সালে, তৎকালীন জেলা প্রশাসক উমাকান্ত উমরাওয়ের উদ্যোগে। প্রশাসন কারিগরি পরামর্শ দেয়, ব্যাংকঋণ পেতে সাহায্য করে, আর বড় কৃষকদের জমির এক-দশমাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ পুকুরের জন্য ছাড়তে উৎসাহ দেয়। ৪০ জন বড় কৃষক দিয়ে শুরু হয়ে ১৪ মাসে প্রায় ২ হাজার পুকুর তৈরি হয়। উমরাও বলেন, তাঁরা শুধু বৃষ্টির পানি গড়িয়ে যেতে না দিয়ে খেতেই ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
দেওয়াসের ভূজলবিদ সুনীল চতুর্বেদীর মতে, পুকুরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের নিশ্চয়তা বেড়েছে, কিছু পানি চুইয়ে ভূগর্ভে গেছে। পুকুর ভরতেই কুয়ায় পানি ফিরেছে, কৃষকেরা দ্বিতীয় ফসল হিসেবে গম, তেলবীজ ও চিয়া চাষ শুরু করেছেন।
তবে মডেলটির সীমাবদ্ধতাও আছে। এর জন্য জমির মালিকানা, ঋণ আর কিছু আবাদি জমি ছেড়ে দেওয়ার সামর্থ্য লাগে, তাই সুফল বেশি পেয়েছেন বড় কৃষকেরা। টোঙ্ক কালার এক কৃষক, যিনি এ কারণেই পুকুর কাটেননি, বলেন, দুই একরের কৃষকের জন্য পুকুর খামারের এক-দশমাংশ নয়, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তার এক-তৃতীয়াংশ হয়ে যেতে পারে। পুকুর সত্ত্বেও ভূগর্ভস্থ পানি তোলা এখনো বেশি।
সূত্র: ডাউন টু আর্থ



মন্তব্য
(০)