যে আগাছা কৃষকের কাছে ঝামেলা, টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে সেটিই এখন অনেকের আয়ের পথ। আনারসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এ লাল মাটির অঞ্চলে ট্রাকে আনারস পাঠানোর সময় ফল মুড়িয়ে রাখতে খড়ের বদলে আগাছা ও ঘাস ব্যবহার বাড়ছে, আর সে আগাছা কেটে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন গারোবাজার এলাকার অনেক মানুষ।
মধুপুরে আনারসের পাশাপাশি কলা, পেঁপে, আদা, কচু ও হলুদের আবাদ হয়, সঙ্গে আপনাআপনি জন্মায় নানা আগাছা। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জগৎবেড় ও জার্মানলতা; শটি গাছের পাতা আর বড় আগাছারও চাহিদা আছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে খড় দিয়ে আনারস সাজিয়ে পাঠানো হতো, কিন্তু খড়ের দাম বেড়েছে আর খড়ে আনারস তেমন সতেজ থাকে না, তাই পাইকারেরা আগাছার দিকে ঝুঁকছেন।
বাজারকেন্দ্রিক কিছু ভ্যানচালক সকাল থেকে ঝোপঝাড়, বন আর আনারস-কলা বাগানের আশপাশ থেকে আগাছা কেটে আনেন। একজন দিনে দুই-তিন ভ্যান আগাছা তুলতে পারেন, প্রতি ভ্যান সাধারণত তিনশ থেকে চারশ টাকায়, কখনো বেশিতে বিক্রি হয়। আনারসের মৌসুম জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত চাহিদা বেশি থাকে।
মোমিনপুর গ্রামের শামছুল আলম জানান, জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত তিনি ছেলেকে নিয়ে আগাছা বিক্রি করেন, প্রতি ভ্যান তিনশ থেকে সাড়ে চারশ টাকায়। মৌসুমে দিনে এক হাজার থেকে বারোশ টাকা আয় হয়, তা দিয়েই কয়েক মাস সংসার চলে। আব্দুর রশিদ বাড়ির আশপাশ থেকে জগৎবেড় ও জার্মানলতা তুলে নগদ তিন-চারশ টাকায় বিক্রি করেন।
ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন লিটন বলেন, জগৎবেড় দিয়ে আনারস ট্রাকে সাজিয়ে মোকামে পাঠালে সহজে নষ্ট হয় না, সতেজ থাকে; তাই গারোবাজারের বেশির ভাগ পাইকার এখন আগাছা ব্যবহার করেন। আনারস ক্রেতা মিঞ্জুর রহমান মিন্টুর মতে, এতে ক্ষতি কম হয়, ফল দেখতে ভালো থাকে এবং ভালো দামে বিক্রি করা যায়। কুলি-শ্রমিকেরা জানান, সবুজ আগাছায় ময়লা থাকে না, মোকামে পৌঁছেও আনারসের রং ঘোলাটে হয় না।
মধুপুর এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইদ্রিস কাজল বলেন, দুর্মূল্যের বাজারে ফেলে দেওয়া আগাছাও অভাবী মানুষের বেঁচে থাকার উপায় হয়েছে, এটা ভাবতে ভালো লাগে।
ছবি: Navaneeth Krishnan S / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: নয়া দিগন্ত





মন্তব্য
(০)