বারবার খরায় ফসল হারানো দক্ষিণ মাদাগাস্কারের বেতিওকি জেলায় সৌরশক্তিচালিত তিনটি কৃষি হাব ও ছয়টি পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্র উদ্বোধন করেছে জাপান সরকার ও জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
‘র্যাপিড রুরাল ট্রান্সফরমেশন’ উদ্যোগের আওতায় গড়া হাবগুলোতে আছে সৌরচালিত সেচ পাম্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র, আয়বর্ধক কাজের সরঞ্জাম আর ফসল সংরক্ষণের উপকরণ। ডব্লিউএফপির তথ্যমতে, এগুলোর সাহায্যে ১ হাজার ৯৮৯ জন ক্ষুদ্র কৃষক বেশি পুষ্টিকর ফসল ফলাচ্ছেন, ফসল তোলার পরের ক্ষতি কমাচ্ছেন এবং খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াচ্ছেন। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানিবিজ্ঞান স্নাতকোত্তর বিদ্যালয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, আর জাপানি এনজিও এএমডিএ-মাইন্ডস জীবিকা বহুমুখী করতে তেলাপিয়া মাছ চাষ গড়ে তুলছে।
২০২৪ সালের এল নিনোর সঙ্গে যুক্ত তীব্র খরার পর ২০২৫ সালে জাপানের ঘোষিত ৩০ কোটি ইয়েন (২০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার) অনুদানে এই নয়টি স্থাপনা তৈরি হয়েছে। এ বছর আরও ১০ কোটি ইয়েনের (৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৬ ডলার) অঙ্গীকারে চতুর্থ একটি সৌর হাবের পরিকল্পনা চলছে। স্থানীয়ভাবে ‘ফারনে’ নামে পরিচিত পুষ্টিকেন্দ্রগুলোতে এ পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ হাজার ২৯২ শিশুর মাঝারি তীব্র অপুষ্টি পরীক্ষা করা হয়েছে; ১ হাজার ২০০-র বেশি নারী উদ্যোক্তা ও আর্থিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
মাদাগাস্কারে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর তানিয়া গুসেন্স বলেন, এই বিনিয়োগ পরিবারগুলোকে বেশি খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে সাহায্য করছে এবং ছোট শিশুদের কাছে পুষ্টিসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। মাদাগাস্কারে জাপানের রাষ্ট্রদূত তোজিমা হিতোশি বলেন, কৃষি, পুষ্টি ও স্থানীয় উন্নয়নে সমন্বিত সহায়তার মাধ্যমে গ্রামীণ জীবিকা ও সহনশীলতা বাড়ানোই উদ্যোগটির লক্ষ্য।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের অভাবের মৌসুমের আগে এই সহায়তা এল। সর্বশেষ আইপিসি বিশ্লেষণের পূর্বাভাস, ওই মৌসুমে মাদাগাস্কারের ৩৭ লাখ ২০ হাজার মানুষ সংকট বা তার চেয়ে খারাপ মাত্রার তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বেন, যার মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার জরুরি পর্যায়ে। শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনোর মধ্যে দেশের দক্ষিণে বৃষ্টির ঘাটতি ও খরা বাড়ছে।
ছবি: SMMIMAGES / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডব্লিউএফপি





মন্তব্য
(০)