মাসে মাসে দাম সমন্বয়ের পরও গত পাঁচ বছরে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৩২ দফায় দাম বাড়িয়েছে, মাঝে কয়েক দফা কমিয়েছেও। সব মিলিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকায় দাঁড়ায়, অর্থাৎ বাড়ে ৯৬৫ টাকা বা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল বেসরকারি এলপিজির দাম প্রথম নির্ধারণ করে বিইআরসি। মে ও জুনে দাম ৯০৬ ও ৮৪২ টাকায় নামলেও জুলাই থেকে নভেম্বর টানা পাঁচ দফায় তা ১ হাজার ৩১৩ টাকায় ওঠে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে সাত দফা করে বাড়ানো ও পাঁচ দফা করে কমানো হয়; ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দাম ছিল ১ হাজার ৪০৪ টাকা। ২০২৪ সালে সাত দফা বাড়ে, আর ২০২৫ সালে দুই দফা বাড়ার বিপরীতে একাধিকবার কমে নভেম্বরে ১ হাজার ২১৫ টাকায় নামে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা, ভ্যাট কমায় পরে ১ হাজার ৩৪১ টাকা। এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এরপর জুনে ৫৫ টাকা ও জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়, আগস্টে ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, আর সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার মেলে না। সেপ্টেম্বরের ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, খুচরা বিক্রেতারা সংকটের কথা বলছেন। অথচ ২৮ সেপ্টেম্বর এলপিজি মালিকেরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠকে দেশে কোনো সংকট নেই বলে জানান। এনবিআরের তথ্যে আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে বলেছেন। পরদিন ১ অক্টোবর এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, সরবরাহ পর্যাপ্ত; বিইআরসির দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধ মজুত করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে সতর্কও করেছে সংগঠনটি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, যে হারে দাম বাড়ছে তা দীর্ঘ মেয়াদে ভোক্তার পক্ষে সামলানো কঠিন, আর সবচেয়ে বড় সমস্যা বিইআরসির দামে কোথাও এলপিজি বিক্রি হয় না। বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিদপ্তর ও বিএসটিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি; প্রয়োজনে অসাধু ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বাতিলের কথাও বলেছেন।
প্রতিবেদনটি বাংলা ট্রিবিউনের সঞ্চিতা সীতুর প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Evil Monkey / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন




মন্তব্য
(০)