রাতে ঘুমানোর সময় ঘরে সামান্য আলো থাকলেও তার সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রের গঠনে সূক্ষ্ম কিন্তু মাপা যায় এমন পরিবর্তনের সম্পর্ক পেয়েছেন গবেষকেরা। যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংকের তথ্যে করা গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে, জানিয়েছে বিজ্ঞানচিন্তা।
১০ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের হাতে এক সপ্তাহ ধরে আলোকসংবেদী যন্ত্র পরিয়ে রাতের আলো মাপা হয় এবং কার্ডিওভাসকুলার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স (সিএমআর) দিয়ে হৃদ্যন্ত্র পরীক্ষা করা হয়। সবচেয়ে বেশি আলোয় থাকা ব্যক্তিরা প্রতি রাতে গড়ে প্রায় ৩৪ মিনিট ৩ লাক্সের বেশি আলোয় ছিলেন, যা বিছানা থেকে এক মিটার দূরে তিনটি মোমবাতির আলোর মতো। তাঁদের হৃদ্যন্ত্রের দেয়াল প্রায় ১.৫ শতাংশ বেশি মোটা, বাঁ নিলয়ের ভর প্রায় ২.৪ শতাংশ বেশি এবং সংকোচনক্ষমতা প্রায় ১.৯ শতাংশ কম ছিল।
আরও বড় বিশ্লেষণে ৭৩ হাজার ২৮৬ জনের তথ্যে দেখা গেছে, রাতে সবচেয়ে বেশি আলোয় থাকা ব্যক্তিদের আট থেকে দশ বছরে হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি ২৯ শতাংশ, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনের ১৫ শতাংশ, মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশনের ২৪ শতাংশ, স্ট্রোকের ৩৩ শতাংশ এবং হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৬ শতাংশ বেশি ছিল। দিনে ১ হাজার লাক্সের বেশি উজ্জ্বল আলোর সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
গবেষকদের ধারণা, রাতের আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়; বিশ্লেষণে ঘুম কমে যাওয়া পাওয়া পরিবর্তনের প্রায় ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ ব্যাখ্যা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোগতত্ত্ববিদ লু চির মতে, রাতের অতিরিক্ত আলো এখন হৃদ্রোগের সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক, তাই রাতের আলোই এসব সমস্যার সরাসরি বা একমাত্র কারণ, এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যায় না; কারণ-প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা দরকার। গবেষকেরা পর্যাপ্ত ঘুম আর যতটা সম্ভব অন্ধকার ঘরে ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন; বাইরের আলো ঢুকলে ব্ল্যাকআউট পর্দা বা চোখের মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তা




মন্তব্য
(০)