অনেক সময় ক্যানসার ধরা পড়ে চতুর্থ স্টেজে গিয়ে, তখন কারও কারও ক্ষেত্রে কিছুই করার থাকে না। আজকের পত্রিকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার লিখেছেন, ক্যানসার শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে ঝুঁকি কমানো যায়।
তাঁর ব্যাখ্যা, ক্যানসারের পেছনে একক কারণ নেই: বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, কিছু রাসায়নিক, বিকিরণ ও নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণ ভূমিকা রাখে। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ, আর হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের দীর্ঘ সংক্রমণ লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
তাঁর পরামর্শ: সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাক ও পরোক্ষ ধূমপান থেকে দূরে থাকা; প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল ও শস্য রাখা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানো; নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম করে স্বাস্থ্যকর ওজন রাখা।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এইচপিভি ও হেপাটাইটিস বির টিকা নেওয়া, নিরাপদ যৌন আচরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি। অতিরিক্ত রোদ থেকে ত্বক সুরক্ষা, বায়ুদূষণে মাস্ক পরা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত খাবার ও প্রসাধনী এড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি।
রান্নার আগে-পরে ভালোভাবে হাত ধোয়া, কাঁচা মাংস, মাছ বা ডিম কাটার ছুরি ও বোর্ড সরাসরি ফল-সবজিতে ব্যবহার না করা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা এবং খাবার ভালোভাবে রান্না করে দীর্ঘ সময় বাইরে না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. কাকলী হালদার। তাঁর মতে, ক্যানসার মানে জীবন শেষ নয়; অনেক ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা যায়, তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, প্রয়োজনীয় টিকা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।
লেখায় প্রকাশিত মত লেখকের নিজস্ব।
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)