নাটোরের লালপুরে পদ্মার পানি নামতে শুরু করায় চরাঞ্চলে ভেসে উঠছে ফসলহানির চিহ্ন। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের আটটি চরের সাড়ে তিন হাজার বিঘার বেশি জমির ফসল তলিয়ে আনুমানিক ৬০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। বুধবার উপজেলা কৃষি বিভাগ এই ক্ষতির হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে পাঠিয়েছে, জানিয়েছে সমকাল।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস জানায়, ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর উজানের ঢলে পদ্মার পানি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে নওশারা সুলতানপুর, দিয়াড় শংকরপুর, চাকলা বিনোদপুর ও রসুলপুরসহ আটটি চর প্লাবিত হয়। চরের চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে, আর ১ হাজার ৩০০ কৃষকের জমির ফসল পানির নিচে চলে যায়।
নাগশোষা গ্রামের কৃষক জমির আলী পদ্মার ইলিশমারি চরে ১০ বিঘা জমিতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে কলার আবাদ করেছিলেন। গাছে কলা আসতে শুরু করতেই আকস্মিক বন্যায় সব পচে যায়, তাঁর হিসাবে ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ টাকার। নতুন করে চাষ করতে হলে এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নেওয়া ছাড়া উপায় দেখছেন না তিনি।
একই এলাকার কৃষক মুনতাজ আলীর তিন বিঘায় চালকুমড়া এবং দুই বিঘায় পটোল ও মুলার ভালো ফলন হয়েছিল। ঢলের পানিতে সব পচে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে; সরকারি সহায়তা না পেলে নতুন ফসল চাষ সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিঘার ফসল তলিয়ে গেলেও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে ১১৬ বিঘার ফসল; প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতি প্রায় ৬০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, রবি মৌসুমে প্রণোদনা বা বিশেষ সহায়তা এলে দ্রুত বিতরণ করা হবে। ক্ষতি পোষাতে কৃষকদের আগাম জাতের শীতকালীন শাকসবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ছবি: Mamun7291 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল



মন্তব্য
(০)