কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় আবার অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ বাড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে উপজেলায় ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়েছেন। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশুর মধ্যেও সংক্রমণের খবর মিলছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ায় ২০১০ সাল থেকে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ দেখা যায়। মাঝে প্রকোপ কিছুটা কমলেও সম্প্রতি দৌলতপুরে আবার বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, অনেক গরু-ছাগল হঠাৎ জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গে মারা যাচ্ছে, আর আক্রান্ত বা মৃত পশুর সংস্পর্শে এসে মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন।
হোসেনাবাদ মাঠপাড়ার নাজমুল ইসলামের ১৮ মাসের শিশু নুসাইবার শরীরে প্রথমে ছোট ফোসকা, পরে কালচে বড় ক্ষত দেখা দেয়। গাছেরদিয়াড়ের ইউসুফ সরদার স্বজনের অসুস্থ গরু জবাইয়ের দুই দিন পর ফোসকায় আক্রান্ত হন; পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়, এখন তিনি চিকিৎসাধীন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন সারাবাংলাকে বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে; শরীরে অস্বাভাবিক ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শ এড়াতে হবে এবং আক্রান্ত পশুর মাংস কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ গবাদিপশুতে টিকাদান চালাচ্ছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শ, খামারিরা নিয়মিত পশুকে টিকা দেবেন, অসুস্থ বা মৃত পশু জবাই করবেন না এবং অসুস্থ পশুর খবর দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
প্রতিবেদনটি সারাবাংলার কুষ্টিয়া প্রতিনিধির।
ছবি: CDC / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সারাবাংলা





মন্তব্য
(০)