সারের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রামের কৃষকদের জন্য ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’ নামে সাময়িক সার বিতরণ কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি বিভাগ। বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন রবি মৌসুমে (মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মার্চ) এই কার্ডের মাধ্যমে সার বিতরণ হবে এবং চিলমারী উপজেলায় ইতিমধ্যে কৃষকদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে।
চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে সার নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়—বিতরণে অব্যবস্থাপনা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলার-খুচরা বিক্রেতাদের যোগসাজশে বিক্রির অভিযোগ এবং কৃষক নন এমন ব্যক্তিদের সার নেওয়ায় প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ, ডিলারের গুদাম থেকে সার লুট, সড়ক অবরোধ, এমনকি কৃষি কর্মকর্তাদের ওপর হামলাও হয়েছে; নিয়মিত বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত সার দিয়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
জেলায় কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার; সর্বশেষ ২০১৪ সালে দেশব্যাপী কৃষি কার্ড তৈরির পর তালিকা আর হালনাগাদ হয়নি। এবার রবি মৌসুমের আগে ব্লক সুপারভাইজারদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা করে সাময়িক কার্ড দেওয়া হবে; কার্ডে থাকবে কৃষকের ছবি, নাম, ঠিকানা, এনআইডি নম্বর ও জমির পরিমাণ, আর প্রতিবার সার দেওয়ার সময় কার্ডে সারের পরিমাণ, ফসলের নাম ও তারিখ লেখা হবে—কার্ড ছাড়া সার মিলবে না।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সার দেওয়ায় প্রকৃত কৃষক ছাড়াও অনেকে সার নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ‘আগামী রবি মৌসুমে সুনির্দিষ্ট তালিকার ভিত্তিতে “মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড” তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হবে। এতে কৃষক ছাড়া অন্য কারও সার নেওয়ার সুযোগ থাকবে না,’ বলেন তিনি।
কৃষকদের চাহিদা মেটাতে সেপ্টেম্বরে নিয়মিত ৪ হাজার ৬৪৪ টনের (গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৩ হাজার ৮৯৪ টন) বাইরে অতিরিক্ত ১ হাজার টন সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার; এতে জেলায় ইউরিয়ার মাসিক বরাদ্দ ৫ হাজার ৬৪৪ টন—গত পাঁচ বছরের মাসিক গড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর বন্যা না হওয়ায় চরের কিছু নিচু জমি চাষযোগ্য হওয়ায় কৃষকেরা বিলম্বিত আমন ও রবির আগাম সবজি শুরু করেছেন, তাতেই বাড়তি চাহিদা।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন — প্রতিবেদন: কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি





মন্তব্য
(০)