কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে একসময় সারা বছর মাছ ধরে সংসার চালাত শত শত জেলে পরিবার। এখন নদে অসংখ্য চর জেগেছে, মৌসুমের আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে নানা অংশ। কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে অনেক জেলে বাপ-দাদার পেশা ছাড়ছেন।
চিলমারীসহ ব্রহ্মপুত্রের বিভিন্ন ঘাটে অনেক নৌকা অলস পড়ে আছে; কেউ কেউ জাল বুনছেন বা মেরামত করছেন। জেলেরা জানান, একসময় বড় আকারের দেশি মাছে জাল ভরে উঠলেও এখন সারা দিন জাল ফেলে ছোট পুঁটি বা টেংরা পাওয়াও কঠিন। অনেকে ঋণ করে দিন চালাচ্ছেন, কেউ রাজমিস্ত্রির জোগালি, দিনমজুরি বা রিকশা চালানোর কাজ নিয়েছেন, কেউ কাজের খোঁজে ঢাকায় গেছেন।
নদীপাড়ের জেলে সুশান্ত বলেন, সারা দিন জাল টেনেও তেলের দাম ওঠে না, পেটের দায়ে অন্য কাজ শুরু করেছেন। জোড়গাছা জেলেপাড়ার অঞ্জলী জানান, যে মাছ পাওয়া যায় তা বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়ার ধরন বদলে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ পাল্টে গেছে; মাছের প্রজনন, বিচরণ ও খাদ্যশৃঙ্খল ব্যাহত হচ্ছে, নাব্যতা কমায় দেশি মাছের আবাসও সংকুচিত হচ্ছে। আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক শামছুদ্দোহা সৌমিক জানান, গত দু-তিন বছরে মৌসুমি বন্যার বদলে আকস্মিক ও স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা যাচ্ছে; যখন যতটা বৃষ্টি হওয়ার কথা, তখন ততটা হচ্ছে না, আবার অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা ব্রহ্মপুত্রের গভীর ও উপযুক্ত জায়গাগুলোকে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা, অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল বন্ধ এবং নাব্যতা ফেরাতে পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। পেশা বদলাতে বাধ্য জেলেদের জন্য ভিজিএফ সহায়তা বাড়ানো, গবাদিপশু পালন ও কুটির শিল্পে প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণের কথাও বলেছেন তাঁরা।
চিলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, পানি কমে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনে মাছের প্রজনন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে নিয়মিত অভিযানে অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হচ্ছে, আর জেলেদের বিকল্প আয়ের জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা চলছে।
প্রতিবেদন: কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)