পথের ধারে, ঝোপঝাড়ে অনায়াসে বেড়ে ওঠা কুকুরচিতা গাছকে অনেকেই চেনেন না। অঞ্চলভেদে এর নাম মেন্দা, মেদা, খারাজোড়া, পিপুলটি বা কারজুকি। ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান চয়ন বিকাশ ভদ্র প্রথম আলোতে গাছটির পরিচয় তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্রতীরের কাছারিঘাটে তিনি এর ফুল এবং জুনে নরসিংদী সরকারি কলেজে ফল দেখেছেন।
কুকুরচিতার বৈজ্ঞানিক নাম Litsea glutinosa। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর প্রাকৃতিক বিস্তার, বাংলাদেশও তার মধ্যে। মাঝারি আকারের এই চিরসবুজ গাছ ৮ থেকে ১৫ মিটার লম্বা হয়; কাণ্ড সোজা, বাকল ধূসর ও খসখসে। পাতা হাতে ডললে আঠালো, সুগন্ধি রস বের হয়, আর পাতা ও ছালে প্রচুর মিউসিলেজ থাকে, যা দিয়ে গাছটি সহজে চেনা যায়।
মে থেকে জুলাইয়ে ছোট, হালকা হলুদ বা সাদাটে-সবুজ সুগন্ধি ফুল গুচ্ছ বেঁধে ফোটে, মৌমাছি ও ছোট পতঙ্গ আসে। বর্ষার শেষে ছোট গোল সবুজ ফল ধরে, শরৎ-হেমন্তে পেকে লাল বা কালচে-বেগুনি হয়। এই ফল বনের পাখি আর কাঠবিড়ালির প্রিয় খাবার, আর ফলের শক্ত বীজেই প্রাকৃতিকভাবে গাছ ছড়ায়।
লেখক জানিয়েছেন, লোকজ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় গাছটির পাতা ও ছাল নানা কাজে ব্যবহারের প্রচলন আছে, আর গবেষণায় এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব ব্যবহার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। গ্রামে এর আঠালো ছাল ও পাতা দিয়ে ধূপ বা আগরবাতির মণ্ড তৈরি হয়।
পরিবেশের দিক থেকেও গাছটি দামি: মাটির ক্ষয় রোধে সাহায্য করে, ঘন পাতায় পাখিরা আশ্রয় পায়, ফল বন্য প্রাণীর খাবার জোগায়। অধ্যাপক চয়ন বিকাশ ভদ্রের মতে, আধুনিকায়ন আর বন উজাড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কুকুরচিতা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে, তাই গাছটি সংরক্ষণ জরুরি।
ছবি: Vinayaraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)