ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের হিসাবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কলকাতায় ৫৫৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ১২৬ বছরে এর চেয়ে বেশি বৃষ্টির সেপ্টেম্বর এসেছে মাত্র তিনবার। ফলে এবারের সেপ্টেম্বর শহরের ইতিহাসে চতুর্থ এবং গত ৫০ বছরে তৃতীয় আর্দ্রতম, জানিয়েছে কলকাতার দৈনিক এই সময়।
পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির (আইআইটিএম) তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার সবচেয়ে ভেজা সেপ্টেম্বর ছিল ১৯০০ সালে, সে মাসে বৃষ্টি হয়েছিল ১,১৫৭ মিলিমিটার। দ্বিতীয় স্থানে ১৯৭৮ সালের বন্যার বছর (৮৯২ মিলিমিটার), তৃতীয় ২০২১ সাল (৬১৩.৮ মিলিমিটার)। এতদিন চতুর্থ স্থানে থাকা ২০০৬ সালের ৫৪১.৮ মিলিমিটারকে এবার ছাড়িয়ে গেছে ২০২৬।
বর্ষার শেষ দফার বৃষ্টিতে গোটা ভারতের ঘাটতিও কিছুটা কমেছে। মৌসম ভবনের হিসাবে এক সপ্তাহে দেশের বৃষ্টির ঘাটতি ১৫ শতাংশ থেকে নেমে ১২.৬ শতাংশ হয়েছে। ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট বৃষ্টি হয়েছে ৭৫৯ মিলিমিটার, যেখানে এই সময়ের স্বাভাবিক গড় ৮৬৮.৬ মিলিমিটার। ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি ছিল ৬৯৭ মিলিমিটার; পরের নয় দিনের ৬২ মিলিমিটার ঘাটতি প্রায় আড়াই শতাংশ কমিয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যায়, বঙ্গোপসাগরে পরপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ আর উত্তর ভারতে সক্রিয় পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবেই এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হয়েছে। ওডিশায় ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১,৪৭৬.৮ মিলিমিটার, স্বাভাবিকের (১,৩৭৮.৮ মিলিমিটার) চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।
পশ্চিমবঙ্গে ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড় বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় ১,৩৫০ মিলিমিটার; এ বছর রাজ্যে বৃষ্টি হয়েছে ১,৩৩৬.১ মিলিমিটার, অর্থাৎ প্রায় স্বাভাবিক। তবে উত্তর-পশ্চিম ভারত, দক্ষিণের উপদ্বীপ অঞ্চল ও উত্তর-পূর্বের কয়েকটি অংশে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদায় নিতে শুরু করলেও আরও কিছুদিন বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরির সম্ভাবনা থাকায় পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলোতে সামনের কয়েক দিনে আরও বৃষ্টি হতে পারে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়।
ছবি: Jorge Royan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এই সময়




মন্তব্য
(০)