নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আমন ধান কাটা ও মাড়াই চলছে পুরোদমে। অনুকূল আবহাওয়া আর পরিচর্যায় বিঘায় মিলছে ১৪ থেকে ১৮ মণ ধান। কিন্তু বাজারে মণপ্রতি দাম মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হওয়ায় বাম্পার ফলনেও লোকসানে পড়েছেন কৃষকেরা।
দশকের পর দশক এ অঞ্চলের কৃষকেরা উঁচু জমিতে ভাদ্র-আশ্বিনের অভাবের সময়ে আগাম আমন করে মঙ্গা তাড়িয়েছেন। এবারও ভুট্টা ও আগাম আলুর মাঝের সময়ে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা ব্রি ধান ৯৪ ও বিভিন্ন হাইব্রিড ‘চায়না’ জাতের ধান আবাদ করেছেন।
চাষিদের হিসাবে হালচাষ, রোপণ, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, নিড়ানি ও কাটা-মাড়াই মিলিয়ে বিঘায় খরচ ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা; অথচ ধান বেচে আসছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ফলে বিঘায় লোকসান ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।
পুটিমারী ইউনিয়নের নূর মোহাম্মদ ওরফে সোনা ১৩ বিঘায় আগাম ধান করেছিলেন। বিঘায় খরচ ১৫ হাজার টাকা, অথচ ১৮ মণ ধানের দাম পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৬০ টাকা আর খড় বেচে দেড় হাজার; সব মিলিয়ে ১৩ বিঘায় লোকসান ৫২ হাজার টাকা। বাহাগিলী ইউনিয়নের বর্গাচাষি মফিজ উদ্দিন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সোয়া দুই বিঘা চাষে খরচ করেছেন ৩৩ হাজার টাকা, ২৯ মণ ধান বেচে পেয়েছেন ১৫ হাজার। তাঁর প্রশ্ন, ‘এখন ঋণের কিস্তি কীভাবে শোধ করব?’
লোকসান ঠেকাতে সরকারিভাবে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, মাঠ থেকে সরাসরি ধান কেনা এবং বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা। মাঠে কেউ কাস্তে দিয়ে, কেউ কম্বাইন হারভেস্টারে ধান কাটছেন; জমি খালি হতেই আগাম আলু ও শীতকালীন সবজির জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, এবার ৪ হাজার ৯১০ হেক্টরে আগাম ধান চাষের লক্ষ্য ছিল; ভাদ্রের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিনজুড়ে বেশির ভাগ জমির মাড়াই শেষ। তবে ধানের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে কৃষি অফিসের হাত নেই। ১৩০ দিনে ঘরে তোলা যায় এমন জলবায়ুসহিষ্ণু ব্রি-৯৮ আউশ জাত আগাম হিসেবে ৬৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আগাম ধান ও আলু করে কৃষকেরা লোকসান পুষিয়ে নিতে পারেন।
প্রতিবেদন: কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি, প্রতিদিনের সংবাদ।
সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ





মন্তব্য
(০)