খাগড়াছড়ির পাহাড়ে জুমের ফলন ভালো হলেও প্রতিবছর জুম চাষের পরিমাণ কমছে। ফল ও সেগুনবাগান সম্প্রসারণ এবং জুমের জমি সংকুচিত হওয়ায় অনেক চাষি এই ঐতিহ্যবাহী চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তবু এখনো জুমে ধান, আদা, হলুদ, ভুট্টা, মারফা, মিষ্টিকুমড়া, তিল ও মরিচ ফলিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন পাহাড়ের মানুষ।
চাষিরা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে পাহাড়ের ঢালে বীজ বোনা হয়, আশ্বিনের শুরুতে ধান পাকে, মাসের শেষ দিক থেকে প্রায় মাসজুড়ে চলে ধান তোলার উৎসব। ধৈইল্যাতলীর জুমচাষি দুলাল ত্রিপুরা (৬১) এবার ধানের সঙ্গে আদা, হলুদ, চিনাল, ভুট্টা, মারফা, মিষ্টিকুমড়া, আমিলা, তিল ও ছিকন মরিচ করেছেন; তেরাংতৈকালাই ঝরনা এলাকার সুনীল ত্রিপুরা দেড় আড়ি ধানের পাশাপাশি মারফা, ভুট্টা, তিল ও কলায় ভালো ফলন পেয়েছেন।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ১৫০ হেক্টর এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে জুমের আবাদ হয়েছে। দীঘিনালার সীমানাপাড়ার কার্বারি চয়ন ত্রিপুরা বলেন, আগে দুর্গম এলাকায় অনেকে জুম করতেন, এখন সেখানে ফলের বাগান, সেগুনবাগান ও বসতবাড়ি হয়েছে; এতে সামনে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
মাটিরাঙ্গার হাচুকপাড়ার জুমচাষি দুলাল ত্রিপুরা, বিক্রম ত্রিপুরা ও অগ্নিলাল ত্রিপুরা জানান, মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া আর প্রতিবছর একই জায়গায় চাষ করায় ফলন আগের মতো হয় না, বাধ্য হয়ে এখন জুমে সার ও কীটনাশক দিতে হয়। সাবেক ইউপি সদস্য গণেশ ত্রিপুরা বলেন, জুমচাষিরা সাধারণত সরকারি কৃষিঋণ পান না; ঋণসহায়তা পেলে চাষিরা আবাদ বাড়াতে উৎসাহিত হতেন।
সাবেক ইউপি সদস্য শান্তিময় ত্রিপুরা জানান, জেলায় সবচেয়ে বেশি জুম হয় আলুটিলা হৃদয়মেম্বার পাড়ায়, যেখানে প্রায় এক হাজার পরিবারের মধ্যে ৩০০ পরিবার জুমের ওপর নির্ভরশীল। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কয়েক বছর ধরে জুমের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে, কৃষি বিভাগ চাষিদের নানাভাবে সহায়তা দিয়ে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনটি করেছেন ঢাকা মেইলের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি বিটন চৌধুরী।
ছবি: Raihan Rana / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ঢাকা মেইল




মন্তব্য
(০)