প্রথাগত জেলেদের গভীর সমুদ্রের জেলে বানানোর ভারতের পরিকল্পনা লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে, বলছে পুলিৎজার সেন্টারের ওশান রিপোর্টিং নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় মোঙ্গাবে-ইন্ডিয়ার এক অনুসন্ধান। ২০২০ সালে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় (পিএমএমএসওয়াই) ২০২০-২৫ মেয়াদে প্রায় ৪৭০ কোটি রুপিতে ৩৯২টি গভীর সমুদ্রগামী নৌকার অনুমোদন দেওয়া হয়, যার বেশির ভাগ টুনা ধরার লংলাইনার ও গিলনেটার, প্রতিটির দাম অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ রুপি। কিন্তু তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া উত্তর ও রাজ্য কর্মকর্তাদের তথ্য মিলিয়ে প্রতিবেদক অদিতি ট্যান্ডন দেখিয়েছেন, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরমাশ হয়েছে মাত্র ১৩১টি।
খরচ সাধারণত জেলে ৬০ শতাংশ ও সরকার ৪০ শতাংশ ভাগ করে; নারী ও কিছু সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকি বেশি, রাজ্যভেদে আলাদা। জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম কিনতে হয় আলাদা করে। বেশির ভাগ ফরমাশ কর্ণাটক (৫৮টি) ও মহারাষ্ট্রের (৪৯টি)। অন্ধ্র প্রদেশ ও কেরালার মতো বড় মৎস্য উৎপাদনকারী রাজ্যে চালু আছে মাত্র ছয়টি নৌকা, আর ওডিশা, গুজরাট, গোয়া বা তামিলনাড়ুতে কেউ নেননি।
প্রকল্প প্রথম চালু হয় কেরালায়, কোচিন শিপইয়ার্ডে তৈরি ২২.৭ মিটারের ইস্পাতের নৌকা দিয়ে। মালিকদের অভিযোগ একই রকম: শীতলীকরণ যন্ত্র কাজ না করায় মাছ পচে যায়, সমুদ্রে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, জ্বালানি লাগে অনেক বেশি, হাল ঠিকমতো কাজ করে না, ইঞ্জিনঘরে পানি ঢোকে। কেউই লাভে নেই, তাঁদের মোট ঋণ ৪ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। কেরালার জেলে শাজু অ্যান্টনি নিজের অংশ হিসেবে প্রায় ৭২ লাখ রুপি জোগাড় করেন, নৌকা পান ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, তারপর মেরামতে খরচ করেন আরও ৩০ লাখ রুপি। তাঁর প্রশ্ন, জেলেদের জন্য নৌকা বানালে জেলেদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয় না কেন।
মহারাষ্ট্রের জেলে ইউনিয়নের নেতা কিরণ কোলি আগের নীল বিপ্লব প্রকল্পে ২০১৭-১৮ সালে আবেদন করে নৌকা পেয়েছেন ২০২৬ সালের জুনে, ভর্তুকির শেষ দুটি কিস্তি এখনো আসেনি। কেরালার অভিজ্ঞতা দেখে কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের জেলে ও নৌকা নির্মাতারা ভিন্ন নকশার দাবি তোলেন; ২০২৫ সালের আগস্টে মৎস্য মন্ত্রণালয় নৌকা কেনার সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করে।
খাতটি বড়: ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের ১.১ শতাংশ ও কৃষির মোট মূল্য সংযোজনের ৭.২৬ শতাংশ আসে মৎস্য থেকে, জীবিকা জোগায় প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের। অতিরিক্ত আহরণ, উপকূল ভাঙন ও উন্নয়নের চাপে উপকূলীয় সমুদ্র ক্লান্ত, তাই সরকার ২০০ মিটারের বেশি গভীরে টুনা, বিলফিশ ও সামুদ্রিক স্কুইডের দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু দেরিতে টাকা, বেশি চালানোর খরচ, দুর্বল নকশা আর ধরা মাছের সরবরাহ শৃঙ্খল ও বাজার না থাকায় অন্য জেলেরা পিছিয়ে যাচ্ছেন। এটি ভারতের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব।
ছবি: PP Yoonus / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Mongabay India




মন্তব্য
(০)