সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ৬ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৭ কিমি/ঘ

সবজি, মাছ, দুধ, গোবরের গ্যাস আর সৌরবিদ্যুৎ: কেরালার এক দম্পতির স্বনির্ভর খামারবাড়ি

ভারতের কেরালার সংগীত ও কাব্যা দম্পতি নিজেদের বাড়িতে সবজি, মাছ ও মাশরুম চাষ, গরু-মুরগি পালন, গোবরের বায়োগ্যাস, সৌরবিদ্যুৎ ও মৌচাষ মিলিয়ে এমন এক চক্র গড়েছেন, যেখানে এক ব্যবস্থার বর্জ্য অন্যটির কাঁচামাল।

সকালে বাজারে না গিয়ে নিজের বাগান থেকে সবজি তুলে রান্না, রান্নার জ্বালানি বাড়ির জৈব বর্জ্য থেকে, সন্ধ্যার আলো সূর্যের বিদ্যুতে, ভারতের কেরালার সংগীত ও কাব্যা দম্পতির বাড়িতে দিনের পর দিন এভাবেই চলছে। সঞ্চয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থে গড়া বাড়িটি বাইরে থেকে সাধারণ, তবে ভেতরে বাগান, গরু-মুরগি ও রান্নাঘরের বর্জ্যকে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁরা গড়ে তুলেছেন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর এক স্বনির্ভর ব্যবস্থা।

এই জীবনের শুরু ভ্রমণ থেকে। বাড়িতে থিতু হওয়ার আগে দশ বছরের বেশি সময় তাঁরা ভারতের নানা প্রান্তে ঘুরেছেন; চাকরি সেই ভ্রমণে বাধা হলে দুজনই চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্স কাজ শুরু করেন। গাড়িতেই রান্না, সঙ্গে তাঁবু ও অল্প কাপড়, হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরতা নেই, কম জিনিসে চলা ও নিজের খাবার নিজে তৈরির যে অভ্যাস পথে গড়ে উঠেছিল, সেটিই এখন তাঁদের জমি ও বাড়িকে ঘিরে স্থায়ী রূপ পেয়েছে।

বাড়ির বাগানে তাঁরা সব ধরনের সবজি চাষ করেন, মাছও চাষ করেন, ধান ফলানোর চেষ্টা চলছে। গরু থেকে দুধ, মুরগি থেকে ডিম, প্রতিদিনের খাবারের বড় অংশ বাড়ি থেকেই আসে, মাস শেষে বাজারের খরচ অনেকটা কমে যায়। অল্প জায়গায় মাশরুমও চাষ করেন তাঁরা; উপযুক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে ২৫ দিন অন্তর মাশরুম সংগ্রহ করেন।

গরুর গোবর এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাড়ির এক অংশে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য ও গোবর দেওয়া হয়; অক্সিজেনবিহীন অবস্থায় অণুজীবের ভাঙনে তৈরি গ্যাসে রান্না হয়, আর প্ল্যান্টের অবশিষ্টাংশ ফিরে যায় কৃষিকাজে। ছাদের সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি সেচেও ব্যবহার করেন তাঁরা; প্রয়োজনের বেশি উৎপাদন হলে তা থেকে আয়েরও সম্ভাবনা আছে।

বাড়ির চারপাশে কাঠের বাক্সে মৌমাছির বাসা থেকে মধু মেলে, আর ফুলে ফুলে ঘোরা মৌমাছি বাগানের ফসলের পরাগায়নেও ভূমিকা রাখে। কাজল, ময়েশ্চারাইজার ও ফেসওয়াশের মতো প্রসাধনও তাঁরা তৈরি করেন বাড়ির নারকেল, কমলা ও আমলকী দিয়ে, গাছগুলো শুধু খাবারের নয়, দৈনন্দিন প্রয়োজনেরও উৎস।

প্রকৃতির সঙ্গে এই সম্পর্ক বাড়ির সীমানায় থামেনি। গত দেড় বছরে ভ্রমণপথে তাঁরা ১০ হাজারের বেশি গাছের চারা লাগিয়েছেন, জিপিএস ট্র্যাকে সেগুলোর অবস্থান রাখছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বেচ্ছাসেবীদের দিয়ে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন; আগামী পাঁচ বছরে লক্ষ্য এক লাখ গাছ। বাগান থেকে খাবার, গরু থেকে দুধ ও গোবর, গোবর থেকে গ্যাস, গ্যাসের অবশিষ্ট থেকে সার, সূর্য থেকে বিদ্যুৎ, মৌমাছি থেকে মধু ও পরাগায়ন, আঙিনা কৃষির এই চক্রে এক ব্যবস্থার ‘বর্জ্য’ অন্যটির সম্পদ হয়ে ফিরে আসে। প্রথম আলো এই প্রতিবেদন লিখেছে ইনস্টাগ্রাম, টাইমস লাইফ ও দ্য বেটার ইন্ডিয়া অবলম্বনে।

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোসূত্র

আঙিনা কৃষি

সম্পর্কিত খবর

ছাদকৃষি

ছাদ-বারান্দার গাছে মিলিবাগ ও শিকড় পচা: নিম, রসুন, হলুদের সাত ঘরোয়া উপায়

রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই নিম তেল, রসুন ও সাবান পানির স্প্রে দিয়ে মিলিবাগ দমন এবং হলুদ, দারুচিনি, বেকিং সোডা ও লঘু হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দিয়ে পচন ঠেকানোর ঘরোয়া উপায় দিয়েছে সারাবাংলা; পোকা দমন আর পচন সারানোর পদ্ধতি যে এক নয়, সেটিও মনে রাখতে বলা হয়েছে।

সারাবাংলা৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

নোনা মাটির শ্যামনগরে আঙিনায় পুকুর কেটে বৃষ্টির পানি, ১২ পদ্ধতিতে সবজি ফলাচ্ছেন নারীরা

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে লিডার্সের প্রশিক্ষণ নিয়ে দিপীকা রাণীরা মাচা, বেড, মালচিং, বস্তা, ভার্টিক্যাল টাওয়ার আর ড্রিপ সেচে সবজি চাষ করছেন; সঙ্গে জৈব সার, জৈব বালাইনাশক আর আলোর ফাঁদ।

বার্তা২৪২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ছাদকৃষি

ছায়াতেও ফলে, বাঁচে ১০-১২ বছর: শফিক বিপ্লবের বন্য নয়ন মরিচের আট হাজার চারা

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বন থেকে সংগ্রহ করা এক জাতের বন্য মরিচের চারা ছাদবাগানি ও আঙিনার চাষিদের কাছে পাঠাচ্ছেন; তবে ফলন ও আয়ুর দাবি এখনো তাঁর নিজের পর্যবেক্ষণ।

জাগো নিউজ ২৪২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)