শহরের পার্ক ও চত্বরে শুধু সৌন্দর্যের জন্য লাগানো গাছ কেটে ফেলে সেখানে ফলমূল ও সবজির বাগান—জার্মানির আন্ডারনাখ শহর ২০১০ সাল থেকে এই কাজ করে ‘খাদ্য উৎপাদনকারী শহরের’ সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। রাস্তার ধারে যা ফলে, বাসিন্দারা তা বিনা মূল্যে তুলে নিতে পারেন। গাজর আর রঙিন ফুলে সাজানো এই শহরের রাস্তা দেখতে এখন পর্যটকও ভিড় করেন।
শহরে ৮ হাজার বর্গমিটার জায়গায় সবজি চাষ হয়। শহরের পাশে ১৩ হেক্টর সরকারি জমিতে হাঁস-মুরগি, গরু ও ভেড়া পালনের সঙ্গে ফলানো হয় বিভিন্ন ফসল; দীর্ঘদিন বেকার থাকা মানুষ এসব খামারের দেখাশোনা করেন। খামারের সবজি, ফল, ডিম ও মাংস কম দামে বিক্রি হয় শহরের নিজস্ব দোকানে। প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা ও বাগান প্রকৌশলী হাইকে বুমগার্ডেন জানান, চতুর্থ বছরে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ছিল শহরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ—ফসল তোলা ও বাগানের যত্নের সময় সবাই একসঙ্গে জড়ো হন, নতুন বুদ্ধি ভাগ করে নেন।
শুরুতে বাসিন্দারা ভাবতেন, রাস্তার গাছ ও ফল সরকারের, তাই হাত দিতেন না। কর্তৃপক্ষ তখন ‘প্রবেশ নিষেধ’ সাইনবোর্ড সরিয়ে লিখে দেয়—নিঃসংকোচে ছিঁড়ে নিয়ে খান। শুধু খাবার ফলানো নয়, নানা জাতের উদ্ভিদের সঙ্গে মানুষের পরিচয় করানোও ছিল উদ্দেশ্য: এক বছর ফলানো হয় ৪০০ জাতের টমেটো, যাতে মানুষ রং, স্বাদ ও আকারের পার্থক্য চিনতে পারে; অন্য বছর স্প্যাগেটি বিনসহ নানা জাতের শিম, আরেক বছর হরেক পদের স্ট্রবেরি। শহরের মধ্যযুগীয় দুর্গের পরিখাতেও এখন সবজি চাষ হয়।
পার্কের বহুবর্ষজীবী শোভাগাছের মতো সবজি নিজে থেকে টিকে থাকে না—নিয়মিত যত্ন ও সঠিক পরিকল্পনা না হলে সময়মতো ফলন মেলে না। ফাঁকা জমি কম থাকায় শহরটি বাড়ির দেয়ালে আঙুরলতা লাগিয়েছে, যা দীর্ঘদিন বাঁচে, কম পরিচর্যায় প্রচুর ফল দেয়। নতুন উদ্যোগ ‘দ্য বিগ বি প্রজেক্ট’-এ স্কুলগুলোর সঙ্গে মিলে মধু-উপযোগী গাছ ও মৌচাক বসানো হচ্ছে, আর শিশুদের চাষাবাদে পরিচয় করাতে ট্রেলারে বসানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ স্কুল-বাগান।
নগর কৃষির এই ধারা ব্রিটেনেও দ্রুত বাড়ছে: লন্ডনে বাসস্টপের খালি জায়গায় খাদ্য ফলাচ্ছেন স্থানীয়রা, আর ইনক্রেডিবল এডিবলের মতো সংস্থা লিডস ও ব্রিস্টলে যৌথ চাষের নেটওয়ার্ক গড়ছে। বাংলাদেশেও রোড ডিভাইডারের খালি জায়গায় ডাঁটাশাক, লালশাক, মরিচ বা টমেটো লাগিয়ে পাশের দোকানদারদের যত্ন নেওয়ার দৃশ্য এখন রিলসে দেখা যায়—উৎপাদিত সবজি তাঁরা খান, বাজারেও বিক্রি করেন। শহরে চাষের জমি না মেলায় পরিত্যক্ত জায়গাই বেছে নিচ্ছেন অনেকে। প্রথম আলো এই প্রতিবেদন লিখেছে ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য টেলিগ্রাফ অবলম্বনে।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)