রাজশাহীর চারঘাটে মো. আশরাফুল ইসলামের ১০ কাঠা জমি এখন বেগুনে ভরা। তিন মাসে এই ছোট জমি থেকে বেগুন বিক্রি করে তিনি আয় করেছেন ৬০ হাজার টাকা। কয়েক দিন পরপর খেত থেকে বেগুন তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন। পাশের খেতে ওয়াশিউর রহমানের সাড়ে পাঁচ বিঘা বেগুন থেকে গত তিন মাসে আয় হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা; একই জমি থেকে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকার বেগুন বিক্রির আশা করছেন তিনি।
আশরাফুল বলেন, আগে নিজের অভিজ্ঞতায় চাষ করতেন; এখন কখন কী করতে হবে, কীভাবে গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই সামলাতে হবে, তা বুঝে কাজ করেন। অল্প জমি থেকেও যে ভালো আয় সম্ভব, সেটি তিনি নিজের জীবনেই দেখছেন।
চারঘাটের কৃষকেরা বেগুনেই থেমে নেই। আশরাফুল ও সুমন মিলে ছয় বিঘায় পাতাকপি লাগিয়েছেন, আগামী তিন মাসে সেখান থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা তাঁদের। দেড় বিঘায় মুলা চাষ করেছেন, যা ৪০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকা এনে দিতে পারে। এলাকার আরও কৃষক শীতের আগাম সবজিতে ঝুঁকছেন।
এই পরিবর্তনের পেছনে আছে ‘ফার্মার স্কুল’—সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের সাসটেইনেবিলিটি উদ্যোগ, কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। চারঘাটের ১৪টি গ্রামের দেড় হাজারের বেশি কৃষক এর কার্যক্রমে যুক্ত। ফসল উৎপাদন ও পরিচর্যা, মাটির স্বাস্থ্য, বালাই ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উপকরণের দায়িত্বশীল ব্যবহার এখানে হাতে-কলমে শেখানো হয়।
সিনজেনটা বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও সাসটেইনেবিলিটি পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত স্কুলটি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে; কৃষকেরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সমাধান পাচ্ছেন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চাষ শিখছেন, যার প্রতিফলন এলাকার ফলন বৃদ্ধিতে।
চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে উৎপাদনের পাশাপাশি সঠিক ফসল নির্বাচন, খরচ ব্যবস্থাপনা ও বাজার সম্পর্কে ধারণা জরুরি; শেখা বিষয় মাঠে প্রয়োগ করে কৃষকেরা ভালো ফলন ও আয় পাচ্ছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নারীরাও পিছিয়ে নেই। ফার্মার স্কুলে যুক্ত নারী কৃষকেরা সবজি উৎপাদন থেকে পরিবারের কৃষি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে সক্রিয় হচ্ছেন। নারী কৃষক রোকসানা খাতুনের ভাষায়, নিজে আয় করতে পারলে নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ে, পরিবারে তাঁর মতামতের গুরুত্বও বাড়ে।
সমকালে জাহিদুর রহমানের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)