ফ্রিজে আমরা দুধ, মাছ, মাংস, সবজি থেকে শুরু করে নানা ধরনের খাবার সংরক্ষণ করি। তবে আলু নিয়ে অনেক দিন ধরেই একটি দ্বিধা রয়েছে-আলু কি ফ্রিজে রাখা উচিত, নাকি বাইরে রাখাই ভালো? একসময় বিশেষজ্ঞরা ফ্রিজে আলু না রাখার পরামর্শ দিতেন। তবে নতুন গবেষণার পর সেই ধারণায় এসেছে পরিবর্তন।
খাদ্য সংস্থা ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি (এফএসকে)-এর আগের নির্দেশনায় আলু ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখার কথা বলা হয়েছিল। এর অন্যতম কারণ ছিল অ্যাক্রিলামাইড তৈরির আশঙ্কা।
আলুতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু শর্করা থাকে। খুব কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে আলুর শর্করার ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। পরে এই আলু ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় ভাজা, রোস্ট বা বেক করলে অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। এই রাসায়নিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা চলছে।
তবে পরবর্তী সময়ে নতুন গবেষণার ফল পর্যালোচনা করে এফএসকে তাদের নির্দেশনায় পরিবর্তন আনে। সংস্থাটির মতে, ঘরের ফ্রিজে আলু রাখলে সাধারণ ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রাখার তুলনায় অ্যাক্রিলামাইড তৈরির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে-এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আলু যেখানে রাখবেন
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আলু ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। আবার ঘরের এমন জায়গাতেও রাখা যায়, যেখানে পরিবেশ ঠান্ডা, শুকনো এবং অন্ধকার। অর্থাৎ আপনার প্রয়োজন ও সংরক্ষণের জায়গার ওপর ভিত্তি করে যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন।
তবে আলু দীর্ঘদিন ভালো রাখা এবং খাবারের অপচয় কমানোর জন্য ফ্রিজে রাখতে পারেন। আলু রাখার আগে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, সেগুলো যেন ভেজা না থাকে এবং পচা আলু অন্যগুলোর সঙ্গে না রাখা হয়।
ডিপ ফ্রিজে কি আলু রাখা যায়?
কাঁচা আলুর ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্রিজ আর ডিপ ফ্রিজ এক বিষয় নয়। তবে সিদ্ধ, আধা-সিদ্ধ বা রান্না করা আলু ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়। অতিরিক্ত রান্না করা আলুও পরে ব্যবহারের জন্য জমিয়ে রাখা সম্ভব।
ডিপ ফ্রিজে রাখা সিদ্ধ বা আধা-সিদ্ধ আলু বের করে সরাসরি ভাজি বা রোস্ট করা যায়। চাইলে সামান্য তেল মেখে ওভেনেও দেওয়া যেতে পারে। তবে খাওয়ার আগে আলু যেন ভেতর পর্যন্ত ভালোভাবে গরম হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
সূত্র: গুড হাউজ কিপিং





মন্তব্য
(০)