বীজ খাত ও উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ নিয়ন্ত্রণের আইন নতুন করে লিখছে কেনিয়া। এ কাজে দেশটির কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (এমওএএলডি) কৃষক, কমিউনিটি বীজ সংগঠন, প্রজননবিদ, বীজ কোম্পানি ও গবেষকদের যুক্ত করেছে, জানিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট International Livestock Research Institute (আইএলআরআই)।
পর্যালোচনায় আছে দুটি খসড়া বিল। বীজ ও উদ্ভিদ জাত বিল ২০২৬ বিদ্যমান বীজ ও উদ্ভিদ জাত আইনের (ক্যাপ ৩২৬) জায়গা নেবে এবং বীজ বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করবে। উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ ইনস্টিটিউট বিল ২০২৬ কৌলিসম্পদের সংরক্ষণ, প্রাপ্যতা ও টেকসই ব্যবহার শক্তিশালী করবে এবং বর্তমান জেনেটিক রিসোর্সেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করবে।
১২ মে আইএলআরআইয়ে মন্ত্রণালয় ও সিজিআইএআরের সংলাপের পর ৭ থেকে ১০ জুলাই নাইভাশা হ্রদের তীরে চার দিনের কারিগরি কর্মশালা করে মন্ত্রণালয়। সংলাপের পর সিজিআইএআরের সাতটি কেন্দ্রের বীজনীতি বিশেষজ্ঞরা মন্ত্রণালয় ও কেনিয়া উদ্ভিদ স্বাস্থ্য পরিদর্শন সেবাকে (কেফিস) একটি যৌথ স্মারকলিপি দেন। অংশীজনদের মতামত ধারা ধরে সাজিয়ে প্রতিটির পাশে লেখা হয়েছে সেটি খসড়ায় নেওয়া হলো, বদলানো হলো, বিধিমালায় রাখা হলো, নাকি আরও বিবেচনার জন্য থাকল।
আলোচনায় চারটি প্রশ্ন প্রাধান্য পায়। প্রথমত, আনুষ্ঠানিক বীজ প্রত্যয়নের পাশাপাশি কৃষক ও কমিউনিটি পর্যায়ের বীজের জন্য কোয়ালিটি ডিক্লেয়ারড সিডের মতো সহজতর মান যাচাই কীভাবে চলবে। দ্বিতীয়ত, কৃষক ও দেশি জাত নথিভুক্ত ও স্বীকৃতি দেওয়া, কমিউনিটির রক্ষণাবেক্ষণ ও কৃষকের অধিকার সুরক্ষা, আর এসব বীজ বা জ্ঞান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারে পূর্বসম্মতি ও সুবিধা ভাগাভাগির শর্ত। তৃতীয়ত, দুটি বিলকে পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা; চতুর্থত, কৃষকের ভালো বীজ পাওয়ার সুযোগ, সংরক্ষণ এবং প্রজননবিদ ও বীজ ব্যবসার জন্য স্থিতিশীল নিয়মের মধ্যে ভারসাম্য।
কৃষিজীববৈচিত্র্য ও কৃষিবাস্তুবিদ্যা বিষয়ক আন্তঃখাত ফোরামের Martin Oulo (মার্টিন উলো) বলেন, দুটি বিল যমজ, এদের একসঙ্গে জোড়া হিসেবেই দেখতে হবে। কেনিয়ার বীজ ব্যবসায়ী সমিতির জয়েস কারাঞ্জা বীজের মানের পাশাপাশি দক্ষ বীজবাজারের ওপর জোর দেন, আর উদ্ভিদ প্রজননবিদ সমিতির মিরিয়াম কিনিউয়া বলেন, কৃষকের মানসম্মত বীজ পাওয়ার সুযোগই হতে হবে কেন্দ্রে। আইএলআরআইয়ের জোসেফ কারুগিয়া বীজ ব্যবস্থার বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও খাদ্যব্যবস্থাগত প্রভাব বিবেচনার আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয় এরপর সংশোধিত খসড়া ও মতামত বিবেচনার ছক অংশগ্রহণকারীদের পাঠিয়েছে। খসড়া জাতীয় বীজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া এবং পরামর্শ ও জনমত গ্রহণের ধাপে আরও কারিগরি কাজ হবে। অ্যালায়েন্স অব বায়োভারসিটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিয়াটের গ্লোরিয়া ওটিয়েনো বলেন, আফ্রিকান ইউনিয়নের উদীয়মান বীজনীতি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য হলে কেনিয়ার আইন অঞ্চলের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।
ছবি: McKay Savage / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ILRI





মন্তব্য
(০)