সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় বর্ষার শেষে আবার শুরু হয়েছে যমুনার ভাঙন। এরই মধ্যে অন্তত ৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে; ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি। উপজেলার পূর্ব পাশে যমুনা আর পশ্চিমে ইছামতী, প্রতিবছরই ভাঙনে ছোট হচ্ছে কাজীপুরের মানচিত্র।
আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে চরগিরিশ ও ভেটুয়াসহ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিনিধি ২৪ সেপ্টেম্বর চরগিরিশ ইউনিয়নে গিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখেছেন; গত এক সপ্তাহে প্রায় ২০ বিঘা তিন ফসলি জমি নদীতে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালেও জিও ব্যাগ ফেলার মতো প্রাথমিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর গতিপথ বদলে ভাঙন তীব্র হচ্ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে তীর সংরক্ষণের কাজ হয় না। ভেটুয়ার আজিবার আলী বলেন, বালু কেটে গর্ত করায় তাঁদের জমি নদীতে চলে যাচ্ছে; তাঁর সাত পাখি জমি বিলীন হয়েছে, এ বছর কোনো ফসল আবাদ করতে পারেননি।
নতুন মাইজবাড়ীর আব্দুর রাজ্জাকের ১৩ বিঘা জমি নদীতে গেছে, এ বছরই গেছে দুই পাখি; তিনি অবৈধ বালু তোলা বন্ধের দাবি জানান। বিলচতলের হারুন অর রশিদ বলেন, নিচ থেকে বালু কাটায় মাটি আলগা হয়ে স্রোতে ভেসে যায়; যে চরে তাঁরা চাষাবাদ করেন ও গরু-ছাগল চরান, সেটিই তাঁদের শেষ সম্বল।
জানা যায়, খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর, চরগিরিশ, মাইজবাড়ী, কাজীপুর, গান্ধাইল ও শুভগাছা, এই ১০টি ইউনিয়নে প্রতিবছর ভাঙন দেখা দেয়। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ব্যবস্থার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনটি করেছেন গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)