আমের প্রচলিত মৌসুম শেষ হলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে এখন পাওয়া যাচ্ছে থাই জাতের বারোমাসি কাটিমন আম। মান ও আকারভেদে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ৩০০ টাকায়; বড় আমে কেজিতে তিনটি, ছোট আমে চার থেকে ছয়টি ধরে। এগ্রিকেয়ার২৪ ডেইলি বাংলাদেশের বরাতে জানিয়েছে, অসময়ে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এর বাণিজ্যিক চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ ও মেহেরপুরসহ নানা এলাকায় কাটিমনের চাষ হচ্ছে। সাধারণত বছরে তিন দফা ফলন আসে: মে-জুন, আগস্ট-সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে। পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূল হলে শীতের শুরুতেও মুকুল আসতে পারে।
কাটিমনগাছ তুলনামূলক ছোট বলে ঘন করে লাগানো যায়, ফলে একই জমিতে প্রচলিত বড় আমগাছের চেয়ে বেশি গাছ ধরে। শুরুর দিকে বাগান করার খরচ ও পরিচর্যা কিছুটা বেশি হলেও পরে ব্যবস্থাপনা সহজ। নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে এর বাণিজ্যিক আবাদ বাড়ছে; চাষি ও ব্যবসায়ীদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করছেন।
প্রতিটি কাটিমন আমের ওজন সাধারণত ২০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। শাঁস রসালো ও আঁশহীন, আঁটি পাতলা; পাকলে গায়ে হলুদ ও হালকা সবুজের আভা দেখা যায়।
তবে ঝুঁকিও আছে। অফ-সিজনে অতিবৃষ্টি ও তীব্র শীতে মুকুল নষ্ট হতে পারে; রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত উৎপাদন, সংরক্ষণ ও দূরপাল্লার পরিবহনে ঘাটতি থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ী ক্ষতিতে পড়তে পারেন।
কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ উৎপাদন, আধুনিক প্যাকেজিং, কোল্ড চেইন ও নিয়ন্ত্রিত পরিবহন নিশ্চিত করা গেলে অফ-সিজনে বিদেশে আম সরবরাহের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
ছবি: Dinesh Valke / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)