নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাতিরদীয়া কলার হাটে সকাল ৮টা থেকে ১০টা, মাত্র দুই ঘণ্টায় প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার কলা কেনাবেচা হয়। সপ্তাহে দুই দিন, রোববার ও বুধবার বসা এই হাটে স্থানীয় কৃষকদের কলা কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা আসেন।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে হাতিরদীয়া বাজারের এই হাট প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো। হাতিরদীয়া, চালাকচর, গড়বাড়ি, মানিকপুর, সোলমানিয়াসহ আশপাশের গ্রামের কৃষকেরা ভোর থেকে রিকশা ও ভ্যানে করে সাগর, চিনি চম্পা, সবরি ও অমৃতসাগরসহ নানা জাতের কলা আনেন। সারি করে সাজানোর পর দর-কষাকষিতে বিক্রি হয়; জাত ও আকারভেদে প্রতি কাঁদির দাম প্রায় ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন এলাকার কাছ থেকে তুলনামূলক সতেজ কলা পাওয়া যায় বলে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও আশপাশের পাইকারেরা নিয়মিত এখানে আসেন। নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি সপ্তাহের দুই হাটবারেই এখান থেকে কলা কিনে ঢাকার বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করেন। তবে হাটের আশপাশের সড়ক প্রশস্ত হলে পরিবহন সহজ হতো বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি হাটবারে বিপুল ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হলেও জায়গা কম থাকায় যানজট ও ভোগান্তি হয়। হাটের জায়গা বাড়ানো ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার দাবি তাদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নরসিংদীতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। জেলার ছয় উপজেলার মধ্যে মনোহরদী, শিবপুর ও পলাশে কলার চাষ বেশি, আর অমৃতসাগর জেলার অন্যতম পরিচিত জাত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার দেব জানান, হাতিরদীয়ার পাশাপাশি নরসিংদীতে ছোট-বড় আরও কয়েকটি কলার হাট আছে, যেখানে অমৃতসাগরসহ নানা জাতের কলা বেচাকেনা হয়। কলা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ছবি: David Stanley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)